অবশেষে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন রাজীব

43
এমএনএ রিপোর্ট : দুই বা‌সের প্রতি‌যো‌গিতায় ডান হাত হারানো রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১) অবশেষে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন।
ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। রাজীবের স্বজন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই ) বাচ্চু মিয়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব গত ৩ এপ্রিল দুপুরে বাসে করে কলেজে যাওয়ার সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী বেলা দেড়টার দিকে বাংলামোটরের দিক থেকে একটি দোতলা বিআরটিসি বাস ফার্মগেটের দিকে আসছিল। সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগনালে একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে ঢুকে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় দুই বাসের মাঝে পড়ে দোতলা বাসের পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাতটি বেরিয়ে ছিল সামান্য বাইরে।
দুই বাসের প্রচণ্ড চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই স্বজন পরিবহনের চালক বাস রেখে পালিয়ে যায়। দোতালা বাসের চালক ওয়াহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শম‌রিতা হাসপাতা‌লে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজীব‌কে ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জে স্থানান্তর করা হয়। সাম‌য়িক উন্নতির পর গত সোমবার থে‌কে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রাজী‌বের মস্তিষ্ক অসাড় হ‌য়ে যায়। সে থে‌কে আর জ্ঞান ফিরে‌নি তার।
রাজীবের খালা লিপি আকতার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের রাজীব আর নেই। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকরা আমাদের এ খবর জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে রাজীবের লাশ গ্রামের বাড়ি বাউফল নিয়ে যাওয়া হবে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে।
পড়ালেখার ফাঁকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে নিজের আর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ভাইয়ের খরচ চালানোর সংগ্রাম করে আসছিলেন এই তরুণ।
রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।