অবশেষে দিল্লি ফিরে গেলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী

37
এমএনএ রিপোর্ট : কওমিপন্থী আলেমদের বিরোধিতার মুখে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়েই অবশেষে দিল্লি ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের এ জিম্মাদার।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে আমরা বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়েছি।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।
তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মাওলানা সাদ তার বয়ানে মুসা (আ.) সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘গুমরাহ’ বলে ফতোয়া দিয়েছে ভারতের দেওবন্দ দারুল উলুম।
ভারতীয় উপমহাদেশের সব কওমি মাদ্রাসা দেওবন্দের আদর্শে পরিচালিত হয়। দেওবন্দের ফতোয়ায় বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামারাও সাদ কান্ধলভির বিরোধিতা করছেন।
তাবলীগের শীর্ষ পরামর্শ সভা থেকে সাদ কান্ধলভিকে ইজতেমায় অংশ না নেয়ার অনুরোধ করা হলেও গত বুধবার দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান।
তখনই বিমানবন্দর এলাকায় তাবলীগের একাংশের অবস্থান নেয়ার কারণে ইজতেমার মাঠে না গিয়ে কাকরাইল মসজিদে যান মাওলানা সাদ। গতকাল শুক্রবার তিনি এ মসজিদে জুমার নামাজে বয়ান করেন।
মাওলানা সাদের বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সকালেও কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করে তাবলিগ জামাতের একাংশ। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।
গত বুধবার তাবলিগের বিবাদমান দুই পক্ষের সাথে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা যথাসময়ে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে হবে।
তিনি বলেন, মাওলানা সাদ সুবিধামতো সময় বাংলাদেশ থেকে চলে যাবেন। তিনি ইজতেমায় অংশ নেবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি কাকরাইলে থাকবেন।
উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা। সেখান থেকে মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তুরাগ নদের তীরে টঙ্গীতে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ইজতেমার বয়ান চলছে।
এ দিকে বিশ্ব ইজতেমার বাইরে মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইজতেমা ময়দানে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে বাইরে সৃষ্ট বিতর্ক ও উত্তেজনা ইজতেমা ময়দানের ভেতরে মুসল্লিদের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি। আগত মুসল্লিদের যার যার মতো নামাজ আদায়, বয়ান শোনা ও ধর্মীয় কাজে মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ইজতেমায় মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।