অবশেষে মেয়রের চেয়ারে বসলেন আরিফুল হক

62

এমএনএ রিপোর্ট : সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা ২১ মিনিটের সময় মেয়রের চেয়ারে বসেছেন।

এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি নগরের কুমারপাড়ার বাসা থেকে বের হন। গাড়ি দিয়ে নগর ভবনে পৌঁছালে তাঁকে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে বরণ করেন।

আরিফুল হক চৌধুরীর সিলেটের মেয়র মেয়র পদে ফিরতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এর ফলে মেয়র হিসেবে আরিফুলের স্বপদে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা দূর হয়।

মেয়র আরিফুল হকের আইনজীবী আবদুল হালিম কাফী জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।

তিনি আরও জানান, এদিন আদালত ‘নট টু ডে’ বলে আদেশ দেন। পরে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয়ার আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন চেম্বার বিচারপতি।

আদালতে আরিফুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মইনুল হোসেন ও আব্দুল হালিম কাফি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর লিভ টু আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে গত রবিবার প্রায় দুই বছর তিন মাস পর আদালতের নির্দেশে মেয়রের চেয়ারে বসার মাত্র তিন ঘন্টার মাথায় আরিফুলকে দ্বিতীয় দফায় বরখাস্ত করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় দফায় বরখাস্তের আদেশের পরদিন গত সোমবার মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকায় গিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। গতকাল বুধবার তিনি সিলেট ফেরেন।

এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মেয়র আরিফকে বরখাস্তের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।

এ ছাড়া বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে তিন দিনের রুল জারি করে ৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

এদিকে মেয়রের চেয়ারে বসে আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অবিচার করা হয়েছিল, সেই অবিচারের বিচার আমি পেয়েছি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আজ আমি মেয়রের চেয়ারে ফিরলাম।’

আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। নয় মাস মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হয়ে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি কারাবন্দী হন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

কিবরিয়া হত্যা মামলা ছাড়াও সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ালীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে বোমা হামলার মামলায়ও সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তিনি।

এ আদেশের বিরুদ্ধে আরিফুল হক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত ১২ মার্চ স্থগিত হয়। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

গত ৩০ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছালে গত রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়রের চেয়ারে বসার প্রায় দুই ঘন্টার মাথায় দ্বিতীয় দফায় বরখাস্ত আদেশ পেয়েছিলেন।