অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে লক্ষে ড. কামালের ৭ দফা

এমএনএ রিপোর্ট : গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণ এমন একটি নির্বাচন দেখতে চায়, যে নির্বাচনে তারা ভয়ভীতি ও প্রভাব ছাড়া তারা অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন।

আজ সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সাত দাবির কথাও জানান। দাবিগুলো হলো— বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাক-স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সভা সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমাদের দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছেছি। যার ফলে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ কাজ করে যাবে, যাতে করে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষপে গ্রহণ করা যায়।

গণফোরাম সভাপতি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের দাবিগুলো আদায়ের জন্য আমরা এমন ব্যক্তি ও দলের সাথে কাজ করবো যারা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ এবং যারা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই লক্ষ্যগুলোর প্রতি সংকল্পবদ্ধ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে কাজ করে যাওয়া ছাড়া অন্যকোনো বিষয়ে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত দলগুলোর মধ্যে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

জামায়াতে ইসলামী বা তারেক রহমানসহ অন্যকোনো বিশেষ নেতার প্রতি সমর্থন হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখার কোনো সুযোগ নেই— এমন মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যারা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেশপূর্ণ, ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন, তাদেরকে আমি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই কাজ করে যাবেন বলেও এসময় জানান তিনি।

x

Check Also

করোনাভাইরাস

দেশে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ১৩৫৬, মৃত্যু ৩০

এমএনএ জাতীয় রিপোর্টঃ দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ১৪৯তম দিনে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৫৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস ...

Scroll Up
%d bloggers like this: