অস্ত্র ও মাদক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট

এমএনএ রিপোর্ট : ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র ও মাদকের দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের হেফাজতে পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।

রমনা থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক মামলায় আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে মাদক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ১১টার দিকে সম্রাটকে আদালতে তুলে দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। এসময় আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সম্রাটের অনুসারীরা। গত ৯ অক্টোবর সম্রা‌টের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থ হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাই রিমান্ড শুনা‌নির জন্য সে‌দিন আদালত আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য ক‌রেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান। গত ৬ অক্টোবর ভোররাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয় এবং শান্তিনগর ও মহাখালীতে তার দুটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে অভিযান চলে মিরপুর দুই নম্বর সেকশনে আরমানের বাসায়।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে সম্রাটের কার্যালয় থেকে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

প্রসঙ্গত গত ৭ অক্টোবর (সোমবার) সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উভয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ রাজধানীতে ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল সম্রাটের। সবার কাছে সে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, দলীয় পদের অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো তার ক্যাডাররা। সম্রাটের কার্যালয় থেকে র‌্যাব অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নির্যাতন করার জন্য ইলেকট্রিক শকড দেওয়ার মেশিন উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবের আড়ালে ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। এর দুদিন পর গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে। অভিযানের প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় আসে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অন্যদের সঙ্গে সম্রাটেরও দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া মাদক ও অস্ত্র পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটো মামলা করা হয়।

কুমিল্লায় অভিযানের সময় যুবলীগ নেতা আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এ সময় আরমানের কাছে ১৪০টি ইয়াবা পাওয়ায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়।

x

Check Also

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস আজ

এমএনএ রিপোর্ট : আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৯৯ সালের ১৯ ...

Scroll Up