আইপিইউ সম্মেলন আস্থা ও আশার মাইলফলক

66

ঢাকায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য যেমন গৌরব ও তাৎপর্যের, তেমনি আস্থা ও আশার মাইলফলকও বটে। এই কথাটি সঙ্গতভাবেই গত শনিবার সংসদ ভবনের প্লাজায় বিশাল আয়োজনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটিতে ধ্বনিত হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় ১৩৬তম সম্মেলন প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। আইপিইউর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। আয়োজক বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।

জাতিসংঘের চেয়েও প্রাচীন এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সদস্য এখন ১৭১টি দেশের জাতীয় পার্লামেন্ট এবং ১১টি আঞ্চলিক পার্লামেন্টারি গ্রুপ। ঢাকায় ১৩২টি দেশের ৫৩ জন স্পিকার, ৬৫০ জন পার্লামেন্টারিয়ানসহ প্রায় ২০০০ প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। ঢাকায় এত বেশিসংখ্যক দেশের প্রতিনিধির একত্র সমাবেশ আগে কখনও হয়নি। সার্কের জন্ম ঘোষণার প্রথমটি থেকে একাধিক সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ও আংশিক ক্রিকেট বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করে আমরা একটি মাত্রায় আন্তর্জাতিক আস্থা আগেই অর্জন করেছি। বিএনপির শাসনামলে ২০০২ সালে ১১৪ রাষ্ট্রের জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠান না করার সরকারি সিদ্ধান্তটি ছিল জাতীয়ভাবে দুঃখজনক। এই মুহুর্তে বিশ্বব্যাপী জঙ্গি সন্ত্রাসী তৎপরতার সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশের একাধিক জেলায় পুলিশি অভিযানে জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করার ঘটনা সবেমাত্র ঘটেছে। এ সময় আইপিইউ সম্মেলন নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও আমাদের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার দিকটি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে। জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজনীন একটি সমস্যা, আমরা সেই ঝুঁকিতে আছি; কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, বাংলাদেশকে ‘অনিরাপদ’ বলে প্রচার চালানোর সুযোগ নেই।

১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলনে প্রধান আলোকপাতের বিষয় বিশ্বব্যাপী ধনবৈষম্যের প্রতিকার এবং সকলের জন্য মর্যাদা ও কল্যাণ। সম্পদ ও আয়ের ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ঘটছে দেশে দেশে এবং একই দেশের ভেতরে অর্থাৎ সামাজিক বৈষম্য। নোবেলবিজয়ী সমাজসেবী ভারতের কৈলাস সত্যার্থী প্রথম দিন এ বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে এক করুণ চিত্র তুলে ধরেন। কয়েক বছর আগে আমেরিকায় কোম্পানির সাধারণ কর্মীর ২০ গুণ বেশি বেতন ছিল প্রধান নির্বাহীর। এখন তা ২০০ গুণ বেশি। অক্সফামের হিসাব থেকে তিনি দেখান, বিশ্বের অর্ধেক তথা ৩৬০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান সম্পদ আছে মাত্র আটজন মানুষের হাতে। এই প্রতিপাদ্যেরই অংশ নারীর সমমর্যাদা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে নারীর অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া। নারী পার্লামেন্টারিয়ানদের কর্মস্থলে প্রতিকূলতা মোকাবেলার একটি সমীক্ষাও প্রথম দিন এসেছে। কৈলাসের মতে, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বিশ্বের নিরাপত্তার অন্তরায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে দারিদ্র্য ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ উভয় আপদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একযোগে কাজ করার সময়োচিত আহ্বান জানান। আমরা ঢাকায় আগত সব প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে আইপিইউ সম্মেলনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

-সম্পাদক