আইপিএলের নিলামে থাকছেন ছয় টাইগার

60

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে ২০১৭ আইপিএলের নিলাম। এতে থাকছেন ছয় টাইগার। প্রত্যেকেরই ভিত্তি মূল্য ৩০ লাখ রুপি।

নিলামের প্রাথমিক তালিকায় মোট ৭৯৯ জন ক্রিকেটার ছিলেন। সেখান থেকে মূল তালিকা ছেঁটে ৩৫১ জন করা হয়েছে। আর এতে রয়েছে ১২২ জন জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা প্লেয়ার। এঁদের সবাই যে বিক্রি হবেন, তাও নয়।

এবারও বেশ কজন খেলোয়াড়কে নিয়ে চলতে পারে কাড়াকাড়ি। বেশ কজন খেলোয়াড়ের দাম উঠবে আকাশে। এঁদের মধ্যে আছেন ইশান্ত শর্মা। আইপিএলের শুরুর দিকেই ৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দামে ​বিক্রি হয়ে ইশান্ত বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। গত কয়েকটি আসরে পেসারদের ভূমিকার কারণে এবারও ফাস্ট বোলারদের ​ওপরে চোখ। এবারও ইশান্তের বেশ বড় দর হাঁকা হতে পারে। তাঁর ভিত্তি মূল্য ধরাই হয়েছে ২ কোটি রুপি।

মূল নিলামে মোট সাত জন ক্রিকেটার সর্বোচ্চ দর পেয়েছেন। যার মধ্যে আছেন ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা, ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস ও ওয়ানডে অধিনায়ক ইয়ন মরগান, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল জনসন ও প্যাট কামিন্স। এদের বেজ প্রাইজ রাখা হয়েছে দু’কোটি ভারতীয় রুপি।

দেড় কোটি রুপির প্রাইজে আছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো, নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট, অস্ট্রেলিয়ার নাথান লিয়ন ও ব্র্যাড হাডিন, দক্ষিণ আফ্রিকার কাইল অ্যাবট ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার।

বাংলাদেশের থেকে নিলামে থাকছেন তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং এনামুল হক বিজয়।

চুড়ান্ত তালিকায় থাকছে পাঁচজন আফগানিস্তান ক্রিকেটার। তারা হলেন দলটির অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই, মোহাম্মদ নবী, মোহাম্মদ শাহজাদ, রশিদ খান ও দাওলাত জাদরান। এদের মধ্যে শাহজাদ ও রশিদ রয়েছেন সর্বোচ্চ বেজ প্রাইজের ৫০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। আর আমিরাত থেকে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আছেন চিরাগ সুরি।

আইপিএলের নিলামে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেই।

এ বছরের আইপিএলের পরই আবার ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ২০১৮তে মেগা নিলাম হওয়ার কথা। তাই বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই এবার নিলামে বড় ভূমিকা নিয়ে নামবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

ক্রিকেটারদের ধরে রাখার নিয়ম আইপিএলে চালু থাকবে কি না সেটা এখনও চূড়ান্ত নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তাই আশায় রয়েছে নিলামে ‘রাইট-টু-ম্যাচ’ বিকল্প থাকার। যে নিয়মে নির্দিষ্ট সংখ্যার ক্রিকেটারদের নিলামে ছাড়ার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে আবার সেই ক্রিকেটারদের কিনে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তার জন্য সেই ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ দর মেটানোর শর্ত পূরণ করতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।

বাংলাদেশ তারকা সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানকে অবশ্য আগেই রেখে দিয়েছে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

তাদের সঙ্গে পূর্বের চুক্তি রয়েছে। সাকিবের ওপর এবারও ভরসা রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তো মোস্তাফিজকে ছাড়বে না সেটা জানা কথা।

গত মৌসুমের আইপিএল মাতিয়ে আসা মোস্তাফিজের নাম এবারও আছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তালিকায়। দলটির হয়ে পুরো মৌসুম খেললে বাংলাদেশের বাঁ হাতি এই পেসার পাবেন ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। বাংলাদেশের মুদ্রায় এটা প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। কলকাতার হয়ে পাঁচ মৌসুম খেলা সাকিব আল হাসানের অঙ্কটা এর দ্বিগুণ। পুরো মৌসুম খেললে এবার তিনি পাবেন ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, আইপিএলের নিলাম মানে তাই কোটি কোটি টাকার কারবার। তাও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ করতে পারবে সেই সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। যেন প্রত্যেকে সমান সুযোগ পায়।

সেই বেঁধে দেওয়া অঙ্কটাও কম নয়। প্রতিটি আসরে একেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড় কেনা বাবদে ৬৬ কোটি রুপি খরচ করতে পারে। আট ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলে যে অঙ্কটা হয় ৫২৮ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া ছয় শ কোটি টাকা।

এখানে অবশ্য একটা ব্যাপার আছে। কোনো দল আগের নিলামে কেনা খেলোয়াড়দের রেখে দিলে তাদের দামটা যোগ করে ৬৬ কোটি রুপি থেকে বিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি যে টাকা থাকে, সেটা দিয়েই তারা নিলামে অংশ নিতে পারে।

তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায়, এবার সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে পেস অলরাউন্ডার স্টোকসের দাম উঠে যেতে পারে আকাশে। যদিও এবারের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো খুব হিসাব করেই নিলামের টেবিলে বসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ক্রিকইনফো।