আইপিএল নিলামে বিক্রিত-অবিক্রিত খেলোয়াড়রা

48

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (আইপিএল) নিলাম মানেই টাকার ঝনঝনানি। প্রতিবারেই এ নিলামের দিকে চোখ থাকে ক্রিকেটামোদীদের। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

আসছে দশম আসর ঘিরে নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। সাড়ে ১৪ কোটি রুপিতে স্টোকসকে দলে ভিড়িয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। তবে এবারের নিলামে অবিক্রিতই থেকে গেলেন বাংলাদেশের ছয় খেলোয়াড়।

স্টোকসের মত বড় চমক দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার টাইমাল মিলস। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৪টি টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলা মিলসের নাম এবারই প্রথম আইপিএলের নিলামে ওঠে; তার ভিত্তিমূল্য ছিল মাত্র ৫০ লাখ রুপি। শেষ পর্যন্ত ১২ কোটি রুপিতে তাকে কিনে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দামে দল পেয়েছেন ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যের নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট। ৫ কোটি রুপিতে তাকে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।

এ ছাড়া এক কোটি রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে ৫ কোটি রুপিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদাকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। রাবাদার পাশাপাশি দুই কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্সকে সাড়ে ৪ কোটিতে কিনে নিয়েছে দিল্লি।

৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছেন ইংল্যান্ডের আরেক অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। তাকে কিনেছে কেকেআর।

সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিজ নিজ দল রেখে দেয়ায় আইপিএলের এবারের আসরের নিলামে বাংলাদেশের অন্য ছয় খেলোয়াড়ের নাম উঠে। তারা হলেন—তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, এনামুল হক, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু এই ছয় খেলোয়াড়ের কাউকেই দলে নেয়নি আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। অর্থাৎ ৩০ লাখ রুপির ভিত্তিমূল্যে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিলামে অবিক্রিতই থেকে গেলেন।

স্টোকস-মিলসদের মতোই বড় চমক দেখিয়েছেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার ১৮ বছর বয়সী রশিদ খান। ৪ কোটি রুপিতে সানরাইজার্স হায়দারাবাদে নাম লিখিয়েছেন তিনি। নিলামে তার ভিত্তিমূল্য ছিল ৫০ লাখ রুপি।

রশিদের পর আফগানিস্তানের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলে দল পেয়েছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। তবে রশিদের মত বড় অঙ্ক পাননি তিনি। ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ রুপিতেই নবীকে দলে নিয়েছে হায়দরাবাদ।

এ ছাড়া অন্যান্য ক্রিকেটারদের মধ্যে দল পেয়েছেন যারা

অস্ট্রেলিয়ান পেসার নাথান কোল্টার-নাইল এক কোটি রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে কলকাতায় এলেন সাড়ে ৩ কোটি রুপিতে। ৩০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে করণ শর্মাকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কিনে নিল ৩ কোটি ২০ লাখে। মিডিয়াম পেসার নটরাজনকে ৩ কোটি রুপিতে কিনে নিল পাঞ্জাব।

২ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে বরুণ অ্যারণকে কিনে নিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ২০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যের মহম্মদ সিরাজকে ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে কিনল হায়দরাবাদ।

শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে ভিত্তিমূল্য ২ কোটিতে কিনে নিল দিল্লি। ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে ইয়ন মর্গ্যানকে কিনে নিল পাঞ্জাব। অঙ্কিত চৌধুরীকে ২ কোটিতে কিনে নিল বেঙ্গালুরু। ভিত্তিমূল্য ২ কোটিতে মিশেল মার্শকে কিনে নিল মুম্বাই। কে গৌথমকেও ২ কোটিতে কিনে নিল মুম্বাই।

১ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে কোরে অ্যান্ডারসনকে কিনে নিল দিল্লি। স্পিনার মুরুগান অস্বিনকে ১০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে এক কোটিতে কিনে নিল দিল্লি। ৩০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে এক কোটিতে পবন নেগিকে কিনে নিল বেঙ্গালুরু। জেসন রয়কে ভিত্তিমূল্য এক কোটিতে দলে নিল গুজরাট লায়ন্স।

বাসিল থাম্পিকে ১০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে ৮৫ লাখ রুপিতে কিনে নিল গুজরাট। একলব্য দ্বিবেদীকে ৭৫ লাখে কিনে নিল হায়দরাবাদ।

ঋষি ধবনকে ৫৫ লাখ রুপিতে কিনে নিল কেকেআর। মার্টিন গাপটিলকে ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখে রুপিতেই তুলে নিল পাঞ্জাব। নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরিকে ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ রুপিতে কিনে নিল পাঞ্জাব। নাথু সিংহকে ৫০ লাখ রুপিতে কিনল গুজরাট।

৩০ লাখ রুপিতে মনপ্রীত গোনিকে কিনে নিল গুজরাট। ৩০ লাখ রুপিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে গেলেন সৌরভ তিওয়ারি। ২৫ লাখে আদিত্য তারেকে কিনে নিল দিল্লি।

১০ লাখে অঙ্কিত বাওয়ানেকে কিনে নিল দিল্লি। ১০ লাখে প্রভীন তাম্বেকে তুলে নিল হায়দরাবাদ।

এবারের নিলামে অবিক্রিত থেকে গেছেন ৯৪ জন খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা, ইরফান পাঠান; ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস, জেসন হোল্ডার, এভিন লুইস; ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস, জনি বেয়ারস্টো; নিউজিল্যান্ডের রস টেইলর, কলিন মুনরো, জেমস নিশাম; দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির; আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ; শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরার মত তারকারা। • ৫০ লাখে মনোজ তিওয়ারি গেলেন পুনেতে।