আগামীকাল ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

30

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : আগামীকাল সোমবার প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাজধানী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন ও দেশের রাজ্য বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা কাল সোমবার ভোট দিয়ে ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

এবারের লড়াই দ্বিমুখী। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ, যিনি প্রার্থী মনোনীত হওয়ার আগে পর্যন্ত বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। ভোট গণনা ২০ জুলাই। দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ তারিখ। একই দিন শপথের পর প্রথা অনুযায়ী বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে রাজাজি মার্গে তাঁর সরকারি আবাসে পৌঁছে দিয়ে আসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফাত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যাঁরা, তাঁদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮। রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে। সবচেয়ে বেশি ভোট মূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, এটি ৮। এবারের ভোটে সাংসদেরা ভোট দেবেন সবুজ ব্যালটে। বিধায়কদের ব্যালটের রং গোলাপি। সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত সদস্যরা এই ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নেবেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পুডুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক।

সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট মূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সাংসদদের ভোট মূল্য ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮, বিধায়কদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

প্রণব মুখার্জিকে দ্বিতীয় দফার জন্য রাষ্ট্রপতি করার যে প্রস্তাব কোনো কোনো বিরোধী দল দিয়েছিল, বিজেপি তা মানেনি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিজেপি তাদের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে। সেই সুযোগ হারাতে তারা রাজি হয়নি। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদই একমাত্র দুই দফায় (১৯৫০-১৯৬২) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এনডিএ ও ইউপিএর এই মুহূর্তে যা ভাগাভাগি, তাতে বিজেপি প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতে পারেন। দুই জোটের বাইরে যে দলগুলো রয়েছে, যেমন বিজু জনতা দল, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, ওয়াই এস আর কংগ্রেস, এআইএডিএমকের দুই শিবির এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট ছোট আঞ্চলিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থন বিজেপি আদায় করে নিয়েছে। ইউপিএ শিবিরে থাকলেও জনতা দল সংযুক্ত সমর্থন করছে রামনাথ কোবিন্দকে। পরাজয় যে নিশ্চিত, কংগ্রেস প্রার্থী মীরা কুমার তা মেনেই নিয়েছেন।