আজ নেলসন ম্যান্ডেলার ৯৭ তম জন্মদিন

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) ডেস্ক : আজ দক্ষিণ আফ্রিকাসহ সারাবিশ্বে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বর্ণবাদ-অবিচার ও শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জীবন্ত কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলার ৯৭ তম জন্মদিন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
বিশ্বব্যাপী শোক ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পালিত হচ্ছে দিনটি। তার কারণ একটাই। ম্যান্ডেলা আজ আর আমাদের মাঝে নেই।
এবারের ম্যান্ডেলা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শেষ হয়েছে। কিন্তু বিশ্বে এখনও হুমকি তৈরি করে রেখেছে দারিদ্র্য, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাতের মতো বৈরী বিষয়গুলো। নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস এসবের বিরুদ্ধে কাজে নামার আহ্বানের দিন। সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো দূর করার ব্যাপারে প্রত্যেককে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে দিনটি পালন করতে পারি আমরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের মভেজো গ্রামে থেম্বু গোত্রে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্ম নেন ম্যান্ডেলা। তার বাবা নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহলা ডালিভুঙ্গা মানডেলা। ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারান। শৈশব কাটে নানাবাড়িতে। আর যখন মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। সেখানেই তার এক শিক্ষিকা তার নাম দেন ‘নেলসন’। এর থেকেই নেলসন ম্যান্ডেলা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষে ‘মাদিবা‘ বলেই ডাকতো তাঁকে। জাতির পিতা হিসেবে ‘তাতা‘ নামেও ডাকা হতো।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই মহান নেতা বিশ্বকে বেঁধে গেছেন ঐক্যের সুতোয়। শ্বেতাঙ্গদের বৈষম্য থেকে মুক্তি আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করায় দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে ‘টাটা’ (বাবা) নামে পরিচিত ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

ম্যান্ডেলা গড়ে উঠেছিলেন ছোট বয়স থেকেই। তরুণ বয়স থেকেই দেশের মানুষের মুক্তির কথা ভাবতেন তিনি। পারিবারিকভাবেই সাহস পেয়েছিলেন মুক্তির সংগ্রামে লড়ার। ২৭ বছরের কারাজীবন শেষে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে মুক্তি দেয় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকার। এরপর ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে ইতিহাসে নাম লেখান নেলসন ম্যান্ডেলা।

এরপর ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে ইতিহাসে নাম লেখান নেলসন ম্যান্ডেলা। ১৯৯৪ সালের ১০ মে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। প্রতিশ্রুতিমতো মাত্র এক মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি।

১৯৯৪ সালের ১০ মে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। এক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরই ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অব্যাহতি নেন। অবসরের পর জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

বর্ণবাদ-জাতিবিদ্বেষ, অন্যায়-অবিচার আর শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের জীবন্ত কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা। বছরের পর বছর বর্ণবাদী দাঙ্গা ও সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শেষমেশ অহিংস শান্তি ও সমন্বয়ের বাণীতেই তিনি আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি ঘটিয়েছিলেন। ম্যান্ডেলা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকারই নেতা নন। তিনি সারাবিশ্বের মানুষের নেতা। তার আদর্শকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে বিশ্ব।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ম্যান্ডেলার ৬৭ বছরের সম্মানে ৬৭ মিনিট দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবাধর্মী কাজে ব্যয় করার কর্মসূচি পালন করা হবে জোহানেসবার্গে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দাতব্য অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে নেলসন ম্যান্ডেলার সম্মানে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের ঘোষণা করে। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জুলাই নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিনে সর্বপ্রথম এই আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়।
x

Check Also

মেজর সিনহা রাশেদ খান

সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় তদন্তকেন্দ্রের ১৬ সদস্য প্রত্যাহার

এমএনএ বিশেষ রিপোর্টঃ কক্সবাজারের টেকনাফে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান ...

Scroll Up
%d bloggers like this: