আজ বিশ্ব মা দিবস

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতিটি ক্ষণ, মুহুর্ত নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যিনি সন্তানকে বড় করে তোলেন, তাকে পৃথিবীতে চলার উপযুক্ত করে গড়ে তোলেন যিনি, সেই ‘মা’য়ের কাছে সন্তানের ঋণ পরিশোধের দিন আজ। মাকে ভক্তি, শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়ে তার দোয়া, আশীর্বাদ নেয়ার আজই সুযোগ।

সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ আমাদের মা, আর প্রিয় শব্দ সুমধুর মা ডাক। পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম ‘মা’। সবচেয়ে পবিত্র ও মধুর শব্দের নাম ‘মা’। মাকে ভালোবাসতে কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই। তবুও পৃথিবীর সব মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে কয়েক যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মা দিবস।

Mothers-Day-1৮ মে (রবিবার) ‘বিশ্ব মা দিবস’। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হয়। দেশ ও অঞ্চলভেদে কোথাও কোথাও অবশ্য মা দিবসের তারিখ ভিন্ন হয়ে থাকে।

বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ব মা দিবস পালনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কবির ভাষায়- ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই / মায়ের চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিভুবনে নাই।’ কালে কালে একটি কথাই চিরায়ত সত্যিতে পরিণত হয়েছে, আর সেটি হচ্ছে- পৃথিবীতে মা শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর দ্বিতীয়টি নেই। সন্তানের কাছে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছেন তার মা।

যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ। জগতে মায়ের মতো এমন আপনজন আর কে আছেন! তাই প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয় মমতাময়ী মায়ের মর্যাদার কথা।

মাকে ভালোবাসা আর তার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধার বিষয়টি পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো।

ইতিহাস খতিয়ে দেখা যায়, মা দিবসের সূচনা প্রাচীন গ্রিসের মাতৃরূপী দেবী সিবেলের আরাধনা, প্রাচীন রোমানে দেবী জুনোর Mothers-Day-2আরাধনা ও ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যে মাদারিং সানডের মতো বেশ ক’টি আচার-অনুষ্ঠান। মায়েদের সম্মানে পালিত মাদারিং সানডে পালিত হতো নির্দিষ্ট একটি রবিবারে।

এ তো গেলো গোঁড়ার দিককার কথা। যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয় আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামে এক নারীর হাত ধরে। ১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পৈচাশিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এটি মাদার’স ডে প্রোক্লেমেশন নামে পরিচিত ছিলো। এ ঘোষণার মধ্যে জুলিয়া রাজনৈতিক স্তরে সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জারভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জারভিস।

১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃ-দিবস হিসেবে পালন করেন। আনা মেরি জারভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। ১৯০৭ সালের এক রবিবার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে Mothers-Day-3মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। মায়ের মৃত্যুর তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার অ‍ান্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালিত হয়।

চার্চটি বর্তমানে International Mother’s Day Shrine নামে পরিচিত। আনা রিভিজ সাদা কারনেশন ফুল ভীষণ ভালোবাসতেন। তাই নিজের ও সব মায়ের সম্মানে চার্চে উপস্থিত সব মায়েদের দু’টি করে সাদা কারনেশন ফুল উপহার দেন অ‍ানা মেরি জারভিস।

কিন্তু এখানেই অ‍ানা মারি জারভিস থেমে ছিলেন না। ১৯১২ সালে তিনি স্থাপন করেন মাদার’স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন। এসময় জারভিস মা দিবসকে ছুটির দিন করার লক্ষ্যে ও দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান। তার এই প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, মেক্সিকো, চীন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায়।

১৯১৪ সালের ৮ মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন-এর উদ্যোগে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস এবং জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা।

এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পিত-এর উদ্যোগে রবিবার বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ভিআইপি সেমিনার হল নীচ তলায় ‘বিশ্ব মা দিবস ও রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দশ কবিতাকর্মীর আত্মনিবেদন অনুষ্ঠিত হবে।

x

Check Also

আবরার হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ...

Scroll Up