আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ইমরান সরকার

29

এমএনএ রিপোর্ট : সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আদলতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

আজ রবিবার ইমরান ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

ভাস্কর্য নিয়ে ‘অপরাজনীতির’ একটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এ মানহানির মামলাটি করা হয়।

গত ৩১ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ইমরানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী।

মামলার সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৮ মে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ভাস্কর্য নিয়ে ‘অপরাজনীতির’ প্রতিবাদে করা মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইমরান এইচ সরকার। এ ছাড়া সনাতন উল্লাহ মিছিলে স্লোগান দেন। মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকর স্লোগান দেন আসামিরা। এতে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনা হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নোমান হোসাইন তালুকদার গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, মামলায় আজ রবিবার ইমরান এইচ সরকারের আদালতে হাজিরের দিন ধার্য ছিল। এদিন তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীর জিম্মায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেন।

তিনি জানান, ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে গত ২৮ মে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বাদী ক্ষুব্ধ, অপমানিত। যেহেতু বাদী বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দলের প্রধান, সে কারণে বাদীর নিজেরও মানহানি হয়েছে।

এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের ও আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী আজ রবিবার আদালতে হাজির হন ইমরান।

সম্প্রতি ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চের ওই মশাল মিছিল থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। স্লোগানের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনার পর গত ২৯ মে রাতে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে শাহবাগে ইমরান সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় গত ৩০ মে ফেসবুকে এক পোস্টে ইমরান দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মিছিলে কোনো কটূক্তি করা হয়নি; বরং সমালোচনার সঙ্গে কটূক্তিকে গুলিয়ে ফেলার এই অপচেষ্টা মানসিক দৈন্যেরই প্রকাশ।