আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন যুবরাজ সিং

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতের এক সময়কার তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। সীমিত ওভারের জন্য সুপরিচিত এই বাঁহাতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিদায় নিলেও আইসিসির অনুমোদিত টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে খেলে যাবেন তিনি।

যুবরাজ সিংয়ের ক্যারিয়ারে উত্থান আর পতনের গল্পটা সমান। ক্যারিয়ারে যেমন উজ্জ্বল রঙিন সময় পার করেছেন, তেমনি দেখেছেন ঘুটঘুটে অন্ধকারচ্ছন্ন দিক আর ধূসর সময়ও।

একটা সময় মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবনটাই প্রায় হারাতে বসেছিলেন। জীবনযুদ্ধে কেবল জয়ীই হননি, আবার ফিরে এসেছেন ক্রিকেটের মাঠে, বুক চিতিয়ে লড়েছেন দেশের হয়ে, জিতিয়েছেনও।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনায় আসেন যুবরাজ। ২০০০ সালে ওয়ানডের মাধ্যমে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। সেবার কেনিয়ার নাইরোবিতে আইসিসি নকআউট টুর্নামেন্টে (বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) তার দলকে ফাইনালে নিতে সাহায্য করেন তিনি।

ভারতের হয়ে দুই দশক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলরদের ওপর ছড়ি চালিয়েছেন। ভারতে ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে জয়ে রেখেছেন বড় অবদান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে ঢুকে গেছেন।

তবে যুবরাজের খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা সময় কাটে ২০১১ ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে। সেবার টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে ভারতকে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করতে মূল ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ২০০৭ প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতেও দলকে শিরোপা জেতাতে দারুণ খেলেন তিনি।

ভারতের হয়ে ২০০০ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় যুবরাজের। ভারতের জার্সিতে ৩০৪টি ওয়ানডে খেলে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫২টি হাফসেঞ্চুরিতে ৩৬.৯২ গড়ে ৮ হাজার ৭০১ রান করেছেন। বল হাতেও কম যাননি। ওয়ানডেতে তার উইকেট সংখ্যা ১১১ টি। যার মধ্যে একবার নিয়েছেন ৫ উইকেটও। আর ৪০টি টেস্ট খেলে তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৩৩.৯২ গড়ে ১৯০০ রান করেছেন। পাশাপাশি নিয়েছেন ৯ টি উইকেট। টি-টোয়েন্টির সফল এই তারকা ৫৮ ম্যাচে ৮টি হাফসেঞ্চুরিতে ও স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৩৮ গড়ে ১১৭৭ রানের পাশাপাশি আছে ২৮ উইকেটও।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যুবরাজ ২৩৮ রান করেন। ওই বছরই জাতীয় দলে ডাক পান। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৮০ বলে ৮৪ রান করেন। তরুণ যুবরাজ নেটওয়েস্ট সিরিজের লর্ডসে ইংল্যান্ডের ৩২৭ রান তাড়া করতে নেমে টপ অর্ডারের ধসের পর ৬৩ বলে ৬৯ রান করেন। ভারতের হিরো বনে যান।

২০১১ বিশ্বকাপে তিনি চার ফিফটি এবং এক সেঞ্চুরিতে ৩৬২ রান করেন। পার্ট টাইম বোলিংয়ে নেন ১৫ উইকেট। কিন্তু বিশ্বকাপের পরে তার ‘স্টোমাক ক্যান্সার’ ধরা পড়ে। ক্যান্সার জয় করে আবার ২০১৩ সালে ক্রিকেটে ফেরেন যুবরাজ। দারুণ সেঞ্চুরিও করেন ফেরার পর। কিন্তু শুরুর সেই যুবরাজকে আর পাওয়া যায়নি। এরপরও ক্রিকেট যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন যুভি।

এসব পরিসংখ্যানের চেয়েও যুবরাজকে মানুষ মনে রাখবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যাট হাতে ২৩ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিসহ ৭৩৮ রান ও বল হাতে একবার ৫ উইকেটসহ ২০ উইকেটের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য।

যুবরাজকে ছাড়াও হয়তো ভারতীয় ক্রিকেট চলবে আপন গতিতেই। কিন্তু আকাশী নীল জার্সিতে কোনো তরুণ যদি অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে দেন অথবা ব্যাট ও বল হাতে দেখান সমান পারদর্শিতা। তখন নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমর্থক সেই তরুণের মাঝে খুঁজে ফিরবেন জীবনযুদ্ধের জয়ী সৈনিক যুবরাজ সিংকে।

x

Check Also

আবারও আটকে গেল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশের পক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরও রোহিঙ্গারা যেতে রাজি ...

Scroll Up