আবরার হত্যার নতুন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ক্যামেরার সন্ধ্যা ৮টা ১২ মিনিট থেকে রাত ৩টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত সময়ের খণ্ডিত অংশগুলো নিয়ে ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে ভিডিও ফুটেজটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার করেন।

প্রকাশের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। এর আগে গত সোমবার (৭ অক্টোবর) রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে এই ভিডিওটি তারা সংগ্রহ করেছিলেন।

ভিডিও বিশ্লেষণ এবং হলের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের কর্মীরা গত রবিবার রাত ৮ টা ১২ মিনিটের দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুম থেকে ডেকে দোতলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহার ২০১১ নম্বর নিয়ে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে বায়োমেডিকেল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও উপসমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল (২৩) নেতৃত্বে আবরারকে মারধর শুরু করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, আবরারকে মারধর শুরু করেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (২৩)। পরে যোগ দেন আরো পাঁচজন। এরা হলেন-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. অনিক সরকার (২৩), ইফতি মোশাররেফ সকাল, অর্কিটেকচার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন (২৩), মনিরুজ্জামান মনির (২১) এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সদস্য মো. মুজাহিদুর রহমান (২২)। মারপিট চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এরপর রাতের খাবার খাওয়ানো হয়। এসময় ব্যথানাশক ট্যাবলেটও খাইয়ে মলমও দেয়া হয় আবরারকে।

দ্বিতীয় দফায় মারপিট শুরু করেন অনিক সরকার। সূত্র বলছে, তিনি ছিলেন সবচেয়ে মারমুখী। মারতে মারতে তিনি আবরারের শরীরের উপরে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেন। একটি স্ট্যাম্প ভাঙার পর মদ্যপ অনিক আরেকটি স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর চালিয়ে যান। মধ্য রাতে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকবার বমিও করেন। এসময় ঘাবড়ে যান ঘাতকরা। আহতবস্থায় রাত ১ টা ১৪ মিনিটে দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন তাকে বের করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্নার (২১) ২০০৫ নম্বর কক্ষে।

সূত্রের দাবি, সেখানেও আবরারকে তৃতীয় দফায় মারপিট করা হয়। এবার তিনি লুটিয়ে পড়েন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর রাত ২টার দিকে আবরারের নিথর দেহটিকে ২০০৫ নম্বর কক্ষ থেকে তোষকের মধ্যে নিয়ে নিচতলায় নামানো হয়। কিন্তু মাঝ সিঁড়িতে যেতেই ঘাতকরা বুঝতে পাড়েন আবরার মারা গেছেন। এরপর সেখানেই আবরারকে ফেলে রেখে সরে পড়ে ঘাতকরা।

পরের দৃশ্য হলের গেটের। এসময় হলের বিষয়টি অনেকটাই জানাজানি হয়ে গেছে। খবর দেয়া হয় হল চিকিৎসককেও। সিঁড়ি থেকে নামিয়ে আবরারের মরদেহ তোলা হয় একটি স্ট্রেচারে। এরপর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা ও টুপি পরা চিকিৎসক আসেন। তার কাঁধে একটি ব্যাগও দেখা যায়। এর মিনিট পাঁচেক পরে হলের প্রভোস্ট ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালক আসেন। তাদের সঙ্গে মেহেদি হাসান রাসেল ও অনিক সরকারকে কথাও বলতে দেখা যায়।

x

Check Also

আজ বুধবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার। নতুন সূর্যালোকে আজ মঙ্গলবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up