আবারও আটকে গেল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম

এমএনএ রিপোর্ট : বাংলাদেশের পক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরও রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আবারও আটকে গেল।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহীদের ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। তবে প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ছাড়পত্র পাওয়া তালিকার মধ্যে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ২৯৫টি পরিবারের কেউ যেতে আগ্রহ দেখায়নি।

রোহিঙ্গারা বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বসহ তাদের প্রধান চারটি দাবি পূরণ না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো রোহিঙ্গাকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণও অব্যাহত থাকবে। এদের মধ্যে কেউ আগ্রহ দেখালে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হবে।

টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২২ আগস্ট রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হওয়ার কথা ছিল। ৩ হাজার ৫৪০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। এর মধ্যে ২৯৫ জনের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন- মিয়ানমারে ফেরত যাবেন না।

তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার চলমান থাকবে। এখন পর্যন্ত একজনও রাজি হয়নি। ফলে কাউকে নেওয়া যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও আরকানা রোহিঙ্গা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব দেওয়া, জমিজমা ও ভিটেমাটির দখল এবং সেদেশে ক্যাম্পে যে এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে তাদের বাসস্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এই চার শর্ত মানলে আমরা মিয়ানমারে ফেরত যাব। শর্ত মানলে আমরা আজই সেখানে যাব। আমরা সবসময়ই রাজি আছি। তবে শর্ত না মানলে যাব না।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ কিনা জানতে চাইলে আবুল কালাম বলেন, ‘এটা ব্যর্থ বলতে পারেন না। সব পরিবারের সাক্ষাৎকার চলবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আমাদের বাস-ট্রাকও রেডি থাকবে। কেউ যেতে চাইলে পাঠানো হবে।’

মিয়ানমারে ফিরতে যেসব শর্ত দিয়েছেন রোহিঙ্গারা সেসব শর্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিয়ানমার এবং রোহিঙ্গাদের ব্যাপার। আমরা শুধু সীমান্ত পার করে দেব’।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৈত্রী সেতু দিয়ে ৩৭ পরিবারের ৩শ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। মিয়ানমারও এসব রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়।

রোহিঙ্গাদের ট্রানজিট পয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচটি বাস ও তাদের মালামাল পরিবহনের জন্য তিনটি ট্রাকের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়াও টেকনাফ শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চীনা দূতাবাসের দুইজন ও মিয়ানমারের একজনসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা টেকনাফে অবস্থান করছেন। তবে রোহিঙ্গারা এখনও পর্যন্ত ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসনে শঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় তখনন কাউকেই রাখাইনে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

x

Check Also

হালকা শীতের পোশাকে হয়ে উঠুন ফ্যাশনেবল

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : এ বছর নভেম্বরের মাঝামাঝিতে হালকা শীতের আমেজ চলে এসেছে। ঢাকায় হালকা ...

Scroll Up