আবারও ডাবল হ্যাটট্রিক করলেন লাসিথ মালিঙ্গা

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আরও একবার ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ উপহার দিলেন লঙ্কান পেস কিংবদন্তি লাসিথ মালিঙ্গা। টানা চার বলে চার উইকেট। যাকে বলা হয় ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’। মালিঙ্গার অবশ্য এমন কীর্তি আগে ছিল ওয়ানডেতে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মালিঙ্গা। তবে সেটা ছিল দুই ওভারে।

ওয়ানডেতে চার বলে চার উইকেটের কীর্তি তার ঝুলিতে ছিলই। এবার তাতে যুক্ত হলো নতুন পালক। টি-টোয়েন্টিতেও টানা চার বলে চার উইকেট তুলে নিয়ে অনন্য কীর্তি গড়লেন লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। এছাড়া গড়েছেন আরও দুই রেকর্ড।

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য কীর্তিটি গড়েছেন মালিঙ্গা। স্বাগতিকদের ছুড়ে দেওয়া ১২৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মালিঙ্গার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও শেষ বলে চার উইকেট তুলে নিয়েছেন লঙ্কান কিংবদন্তি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগেই জিতে গেছে নিউজিল্যান্ড। আজকের ম্যাচ নিয়ে তাই খুব একটা আগ্রহ ছিল না কারও। শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১২৫ রান তোলার পর হয়তো অনেকে টিভির চ্যানেলও বদলে নিয়েছেন। দুর্ভাগা তারা, মালিঙ্গার ইতিহাস গড়াটা যে দেখা হলো না তাঁদের। প্রথম দুই ওভার ভালোই খেলছিল নিউজিল্যান্ড। বিনা উইকেতে ১৫ রান তুলে ফেলা দলটির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তৃতীয় ওভারে। তৃতীয় বলে কিউই কলিন মানরোকে আউট সুইঙ্গারে (মানরোর জন্য ভেতরে ঢোকা বল) টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০তম উইকেটের মাইলফলক গড়েন মালিঙ্গা।

পরের বলটিও আউট সুইঙ্গার ছিল। এলবিডব্লুর দাবিতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু মালিঙ্গা রিভিউ নিতে দেরি করেননি। আউট হতেই হলো রাদারফোর্ডকে। পরের বলটি মোকাবিলা করতে নেমেছিলেন টানা দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে জয় এনে দেওয়া কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। মালিঙ্গার এক ইয়র্কার তাঁকেও ফেরত পাঠাল ড্রেসিং রুমে, হ্যাটট্রিক! একমাত্র বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে দুটি হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন মালিঙ্গা।

ইতিহাস গড়ার বাকি ছিল এরপরও। ওভারের শেষ বল খেলার দায়িত্ব পেয়েছিলেন রস টেলর। আরেকটি অবিশ্বাস্য ইয়র্কার গিয়ে আঘাত হানল টেলরের প্যাডে। জোরালো আবেদন আর আম্পায়ারের আঙুল ওপরে উঠতেও দেরি হয়নি। চার বলে চার উইকেট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বিতীয় ডাবল হ্যাটট্রিক। ২০০৭ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি হলো, আবার হলো না। সেবার সব উইকেটই ছিল রিভার্স সুইংয়ে, ভেতরে ঢোকা বলে। এবারের ঘটনা নতুন বলে, আউট সুইং আর লেট সুইং দিয়ে। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি তো আর এমনি এমনি হয়নি তাঁর।

এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও থামেননি মালিঙ্গা। নিজের তৃতীয় ওভারেও আরেকবার আঘাত হেনেছে। তিন ওভারে ৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে শেষ করে দিয়েছেন। ১০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ৫২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

এর আগে ওয়ানডেতে চার বলে চার উইকেট নেওয়ার একমাত্র কীর্তিটি গড়েছিলেন মালিঙ্গা। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক, অ্যান্ড্রু হল, জ্যাক ক্যালিস ও মাখায়া এনটিনিকে টানা চার বলে বিদায় করেছিলেন তিনি।

এদিকে এটি মালিঙ্গার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে কলম্বোতে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে দুটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি নেই আর কারো। এটি টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে পঞ্চম হ্যাটট্রিকের ঘটনা। প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক সাবেক অজি ফাস্ট বোলার ব্রেট লি। এই কীর্তি তিনি গড়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০৭ সালে।

টি-টোয়েন্টিতে চার বলে চার উইকেট পাওয়ার প্রথম কীর্তিটি অবশ্য রশিদ খানের দখলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন আফগান লেগ স্পিনার। তবে তার কীর্তিটি অবশ্য দুই ওভার মিলিয়ে। অর্থাৎ, এক ওভারের শেষ বলে একটি আর পরের ওভারের প্রথম তিন বলে বাকি তিনটি।

x

Check Also

সংকটের মুখে পদত্যাগ করলেন অনিল আম্বানি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম) ভারতের অন্যতম শীর্ষ সেলফোন অপারেটর। তবে দেশটির ...

Scroll Up