আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চাই : শেখ হাসিনা

এমএনএ রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে সম্মান অর্জন করেছে তা রক্ষা করতে হবে। আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। ইনশাল্লাহ নৌকার বিজয় হবে।

এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে তারেক জিয়া। সে এখন বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। লন্ডনে বসে নাটাই ঘোরাচ্ছে। তাকে ধরে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করব।

শেখ হাসিনা বলেন, গত জানুয়ারি মাসে আমি সিলেটে হযরত শাহ জালাল (রহ.) ও শাহ পরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে এসেছিলাম। আবার এ বিজয়ের মাসে এসেছি, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে।

এসময় শেখ হাসিনা জনসভার মঞ্চে ডেকে সিলেটের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বানও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে উন্নয়ন করেছি; এই উন্নয়ন ধরে রাখতে হবে। নৌকার প্রর্থীদের বিজয়ী করতে হবে। বিএপি-জামায়াত জোটের চরিত্র- হত্যা, খুন ও জঙ্গিবাদ। নির্বাচনে তারা কি করেছে! একেকজনকে চারবার করে নমিনেশন দিচ্ছে। যে যত টাকা দেবে তাকে নমিনেশন!

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ওই প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ইনাম আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন- আমি তাকে স্বাগত জানাই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী বার যদি সরকারে আসতে পারি; তবে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, দারিদ্র বলে কিছু থাকবে না।

তিনি বলেন, এই নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু। সেই নবীর আমলে মানব জাতিকে রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ উন্নয় পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে আলো জালাবো; কোনও ঘর অন্ধকার থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন, বাংলাদেশ মানে উন্নয়নের রোল মডেল। বংলাদেশ মানে প্রবৃদ্ধি। উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বিশ্বে মাথা উচু করে চলব। কারো কাছে মাথা নিচু নয়।

‘সিলেটের যোগাযোগ উন্নয়ন করতে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ঢাকা-সিলেট যোগাযোগে চার লেনের প্রকল্প গ্রহণ করেছি। দ্রুতই সে কাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, সিলেট বিভাগ দিয়েছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছি। প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি।

‘তাদের অপকর্মের জন্যই বাংলাদেশে ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরপর আপনারা সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে নৌকাকে বিজয়ী করেন।’

তিনি আরও বলেন, তারা ২০১৪ তে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়েছিল। তারা দুর্নীতি সন্ত্রাসবাদ ছাড়া কিছু বোঝে না।

‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আমরা মামলা দিইনি। দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আর সেই মামলায় তিনি আজ সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।’

এর আগে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে শেখ হাসিনা সভামঞ্চে পৌঁছান।

দুপুর ২টা ৫ মিনিটে নগরীর কালেক্টর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ আলমের কোরআন তেলাওয়াত ও বাবু জয়ন্ত বিজয় চক্রবর্তীর গীতা পাঠের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সভায় শেখ হাসিনা সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের নৌকার প্রার্থীদের জন্য নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।

জনসভায় উপস্থিত আছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে শনিবার সিলেট পা রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এখন সেখান থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে যান।

পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে শাহপরাণ (রহ.) ও গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে বিশ্রাম করেন।

জনসভা শেষে ফেরার পথে সিলেট ক্লাবে বিভাগের নৌকার প্রার্থী ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার সিলেট সফরে আসছেন সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সরকারি কোনো রকমের সুযোগ-সুবিধা নেয়া হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে সকাল থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে আলীয়া মাঠের চারদিক। নগরীতেও মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

অপরদিকে, দলীয়প্রধানের এই সফর সামনে রেখে গত শুক্রবার রাতেই সিলেট পৌঁছান আওয়ামী লীগের নেতারা। ফলে জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা অষ্টম সংসদ নির্বাচনের সময় ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

তবে নবম সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় সিলেট আসেননি। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের সময় তিনি নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত জনসভায় ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর ফলকের উন্মোচন করেন তিনি।

x

Check Also

আজ বুধবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার। নতুন সূর্যালোকে আজ মঙ্গলবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up