আম পাতার বিস্ময়কর ১০টি ঔষধি গুনাগুণ

93

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : কাঁচা হোক কিংবা পাকা প্রকারান্তে আম সবারই প্রিয়। সবচেয়ে উপাদেয় ফল হিসেবে এটি অনেকের কাছেই পছন্দের শীর্ষে। ফলের রাজা হিসেবেেআমের যেমন রয়েছে নানান গুনাগুন, তেমনি আম পাতারও রয়েছে বিস্ময়কর ১০টি ঔষধি গুনাগুন।

আম পাতার বিস্ময়কর ১০টি ঔষধি গুনাগুন নিয়ে এ বিশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন – মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন

সাধারণত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে আম পাতা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। উজ্জ্বল, মাংসল এবং সূক্ষ্ম প্রান্তের আম পাতা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আম পাতায় প্রচুর ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। আম পাতার ঔষধি গুনাগুণ পাওয়ার জন্য ফুটিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। আম পাতার ১০টি ঔষধি গুণের কথা জেনে নিই চলুন।

১। রক্তচাপ কমাতে

আম পাতায় রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে। হাইপারটেনশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে।

২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

আম পাতায় ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৩। শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা নিরাময়ে

আম পাতার চা পান করলে সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমতে সাহায্য করে। যারা ঠান্ডা, ব্রংকাইটিস বা অ্যাজমায় ভুগছেন তারা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

৪। কান ব্যথা কমাতে

আপনি যদি কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার করা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি চমৎকারভাবে কাজ করবে।

৫। পোড়া সারাতে

আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হতে পারে খুব দ্রুত। আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন।

৬। ইউরিক এসিডের সমস্যা নিরাময়ে

গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

৭। স্ট্রেস কমাতে

যারা অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ু তন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

৮। কিডনির পাথর দূর করতে

আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

৯। গলা ব্যথা দূর করতে

গলার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আম পাতা। কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

১০। মৌখিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে

আম পাতার সাহায্যে আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করা যায় এবং অস্বাস্থ্যকর দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে।