ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ : ডিএমপি

41
এমএনএ রিপোর্ট : বিশ্ব ইজতেমায় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশায় ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকারের যে সিদ্ধান্ত, তাতে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাচ্ছেন না। তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে রাখা হয়েছে।’
বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা ও তাবলিগ জামাতের একাংশের আন্দোলনের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হল।এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদ যাতে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল তাবলিগ জামাতের একাংশ।
কাকরাইল মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এই এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই তাবলিগের একাংশের সমর্থক মুসল্লিরা বিমানবন্দর চত্বরে মাওলানা সাদ বিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। সাদকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর সড়কে তারা অবস্থান নেন। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
পরে মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে যাবেন না পুলিশের পক্ষ থেকে, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
অতঃপর কঠোর নিরাপত্তায় সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে বিকেলে মাওলানা সাদকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে মাওলানা সাদকে ইজতেমায় যেতে বাধা দিতে তাবলিগ নেতারা কাকরাইল মসজিদ ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই কাকরাইল মসজিদ এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা পুলিশ, র‌্যাব ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা।সেখান থেকে মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
একপর্যায়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ছয়জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
তুরাগ নদের তীরে টঙ্গীতে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দাওয়াতে তাবলিগের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে অংশ নিতে এর মধ্যেই মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। মুসল্লিদের পদচারণায় ময়দানের অনেকাংশ মুখর হয়ে উঠেছে।