ইতিহাস নির্ভর বলিউডের জনপ্রিয় পাঁচ ছবি

15
এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : ইতিহাস হলো মানুষের অতীত ঘটনা ও কার্যাবলীর অধ্যয়ন। বৈচিত্র্যময় সেসব অতীতকে বহু গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও কবি ধারন করেছেন তাদের সাহিত্যে। আবার সেসব ইতিহাসকে কেউ কেউ রুপালি পর্দায় দিয়েছেন জীবন্ত রূপ। বলিউডের রুপালি পর্দার তেমনই পাঁচটি জনপ্রিয় ছবি নিয়ে এই আয়োজনে লিখেছেন রাকিব আল হাসান
মুঘলআজম
বলিউডের এই ঐতিহাসিক ছবিটির পরিচালক ছিলেন কে. আসিফ। ছবিটির চিত্রনাট্য ছিলো মূলত মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও রাজ দরবারের নর্তকী আনারকলির অমর প্রেম কাহিনী নিয়ে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুরো নাম ছিলো মীর্জা নূর উদ্দিন বেগ মুহাম্মদ খান সেলিম। ছবিটিতে সম্রাটের সেলিম নামটিই ব্যাবহৃত হয়। ছবিটি নির্মাণে পরিচালক আসিফ প্রায় এক দশক সময় নিয়েছিলেন। এবং সে অনুরুপ সফলতাও পেয়েছিলেন তিনি।
তৎকালীন বক্স অফিসে ছবিটি করেছিলো সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড, প্রায় ৪ কোটি টাকা ঘরে তুলেছিলো ‘মুঘল-ই-আজম। মুল্যস্ফীতির হিসেবে বর্তমানে বাজারে ছবিটির আয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
ছবিটিতে আনারকলি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তী নায়িকা মধুবালা ও সম্রাট জাহাঙ্গীরের ভুমিকায় ছিলেন বলিউডের সুপারস্টার দিলীপ কুমার।
অশোকা
মৌর্য আমলের সম্রাট অশোকার জীবনের প্রাথমিক দিকগুলো নিয়ে নির্মিত হয়েছিলো ‘অশোকা দ্য গ্রেট’ শিরোনামের ছবিটি। ছবিটির প্রযোজক ও নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাহরুখ নিজেই। ছবিটিতে অশোকার প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর।
২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির পরিচালনায় ছিলেন সান্তোষ সিভান। সেসময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই ছবিটি।
যোধা আকবর
ইতিহাস নির্ভর ছবি নির্মাণে বলিউডের যে কয়েকজন প্রসিদ্ধ পরিচালক রয়েছেন তাদের মধ্যে আশুতোষ গোয়ারকিয়র অন্যতম। যোধাবাঈয়ের প্রতি মোঘল সম্রাট আকবরের প্রেম নিয়ে নির্মিত এই ছবির চিত্রনাট্য। বাদশাহ আকবর থেকে প্রেমিক আকবর কতোটা সুনিপুণ ছিলেন তা বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন এ পরিচালক।
ছবিতে আকবরের চরিত্রে হৃত্বিক রোশন ও যোধাবাঈ চরিত্রে ঐশ্বরিয়া করেছিলেন বাজিমাত। হালের পদ্মাবতীর মতো এ ছবির মুক্তির আগেও একদল অভিযোগ তুলেছিলো। তবে সব কিছুকেই ম্লান করে দিয়েছে ছবিটির গল্প বলার ভঙ্গি ও সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের সুরের মূর্ছনা।
দ্য লিজেন্ড অব ভগত সিং
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নিজের প্রাণ দিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে রইলেন ভগত সিং। তাকে নিয়েই নির্মাণ করা হয় ছবিটি। ভগত সিংয়ের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ছবিটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছিনিয়ে নেন অজয় দেবগান। রাজকুমার সান্তোষি পরিচালিত ছবিটি জিতে নেয় ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা ছবির পদকটিও।
বাজিরাও মাস্তানি
সতেরশো শতাব্দীর মারাঠা সম্রাজের অধিপতি ছিলেন বাজিরাও বল্লাল। ভিন্ন ধর্মের মাস্তানির প্রতি বাজিরাওয়ের প্রেম উপখ্যান নিয়েই নির্মিত হয়েছিলো এ ছবিটি। সঞ্জয়লীলা বানশালি রুপালি পর্দায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন বাজিরাও ও মাস্তানির এই কাব্যিক রসায়নকে। ছবিটিতে বাজিরাও চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রণভীর সিং ও মাস্তানি চরিত্রে ছিলেন দীপিকা পাডূকোন।
এছাড়াও বাজিরাওর প্রথম স্ত্রী কাশিবাঈর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়াংকা চোপড়া।