ইথিওপিয়ায় আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৪৮

49

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইথিওপিয়া রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পাহাড়সম এক আবর্জনার স্তূপ ধসে প্রাণ গেছে ৪৮ জনের। এখনও বহু মানুষ আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

গত শনিবার রাতে আদ্দিস আবাবার কোশে ল্যান্ডফিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপি, বিবিসির।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে সব ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

ওই এলাকার একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দেড় শতাধিক মানুষের বসবাস ছিল। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে।

বেশিরভাগ ঘরবাড়িই বিপুল পরিমাণ আবর্জনার নিচে চাপা পড়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদ্দিস আবাবার উপকণ্ঠে আবর্জনার ওই স্তূপ তৈরি হয়েছে গত পাঁচ দশক ধরে। কয়েকশ মানুষ সেখানে আবর্জনা থেকে বিক্রি করার মত জিনিস কুড়িয়ে জীবন চালিয়ে আসছিলেন। বড় এলাকা নিয়ে ওই ডাম্পিং গ্রুাউন্ডের পাশে তারা গড়ে তুলেছিলেন বেশ কিছু বস্তিঘর। সেগুলো এখন কয়েক হাজার টন আবর্জনার নিচে চাপা পড়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছেন, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রেপ্পি ডাম্প নামের ওই ডাম্পিং সাইটে ধস নামে। মুসা সুলাইমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তিনি বড় ধরনের শব্দ শুনতে পেয়ে ভাবেন টর্নেডো হচ্ছে। এরপর মুহুর্তে আবর্জনার স্তূপ ধসে পড়ে।

তাবেজু আসরেস নামের একজন বলেন, আমাদের ঘরও ময়লার নিচে চাপা পড়েছে। আমার মা আর তিন বোন রয়েছে সেখানে। জানি না ওদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।

নগর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র বলেছেন, হতাহতদের মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ভূমিধসে দুঃখপ্রকাশ করে গতকাল রবিবার দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী নেগেরি লেনচো জানান, সরকার ওই এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছিল। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে একটি কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, যারা নিখোঁজ রয়েছে, তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আক্রান্ত পরিবারকে সরকার পুনর্বাসন করবে।

এছাড়া ধসের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান নেগেরি লেনচো।

বিবিসি জানিয়েছে, ৪০ লাখ মানুষের শহর আদ্দিস আবাবার প্রতিদিনের আবর্জনা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ওই রেপ্পি ডাম্পের কাছেই আফ্রিকার প্রথম আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ তৈরির এই কেন্দ্রে গড়ে তোলা হচ্ছে।