ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

23
এমএনএ রিপোর্ট : এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ইন্টারনেট আড়াই ঘণ্টা বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটা থেকে সরে এসেছে সরকার। আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসি’র এক কর্মকর্তা জানান, ইন্টারনেট বন্ধের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)-এর একটি সূত্র মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিএবি সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকালে বিটিআরসি থেকে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা আইএসপিএবি-কে জানানো হয়।
একের পর প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ১২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষার দিন আড়াই ঘণ্টা করে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। গতকাল রবিবার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার আগে ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়। কিন্তু এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়ে যায়। এ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার শুরু থেকে সাত বিষয়ের সবগুলোর প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো।
সরকারের গতকালের এ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেন। এমতাবস্থায় একদিন পরই ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল সরকার।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত (৩০ মিনিট) সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিদের্শনা অনুযায়ী ওই ৩০ মিনিট ইন্টারনেট সংযোগে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দিয়েছিল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এর আগে, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় দেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন কয়েকটি অ্যাপ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহার ৪০০ জিবিপিএস ছাড়িয়ে গেছে। ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস নেয়া হয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড(বিএসসিসিএল) থেকে এবং ১৮০ জিবিপিএস নেয়া হয় ভারতের আইটিসি অপারেটরদের মাধ্যমে।
বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটির বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। বাকি ৫০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।