ইরান-ইরাক সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংথ্যা বেড়ে ২২৫

48
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরাক ও ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় আজ সোমবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তুপে আটকে আছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পটি ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে; তবে ইরাকের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে আরো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের সময় দুই দেশের সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন এ সময় বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইরান সীমান্তবর্তী ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্থানের সুলাইমানিয়া প্রদেশের পেঞ্জভিনে। এলাকাটি ইরানের সঙ্গে প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ের সন্নিকটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বেহনাম সাঈদি জানিয়েছেন, ইরানে অন্তত ২২৫ জন নিহত ও ২১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ইরানের বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভূমিকম্পটি অনুভূত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কেরমানশাহ প্রদেশে। কর্তৃপক্ষ প্রদেশটিতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে।
ইরাকি সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেরমানশাহের সারপোল ই জাহাব শহরে ৯৭ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শহরের প্রধান হাসপাতালটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহত শত শত মানুষকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।
ইরাকের কুর্দিস্থানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সেখানে অন্তত চারজন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
ভূমিকম্পে ইরাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুলাইমানিয়া শহরের ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর দারবান্দিখান। এখানে ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুর্দিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেকবত হামা রাশীদ।
এই ভূমিকম্পে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর দিয়ারবাকিরও কেঁপে ওঠে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খবর পাওয়া যায়নি।