ইসলামে নারীদের জন্য পর্দার বিধান

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : ইসলামে নারীদের জন্য পর্দার বিধান সম্পর্কে কঠোর নিয়মকানুনসহ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নারীকে পর্দার আড়ালে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত করে তুলতে তার পরিবারের অভিভাবকদের উপরে বর্তায়।

‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের (মুখমণ্ডলের) ওপর ঝুলিয়ে দেয়। এটা তাদেরকে (আলাদাভাবে) চেনার এবং এর ফলে (দুশ্চরিত্র বখাটে লোকদের) নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার পক্ষে সর্বাধিক কার্যকর। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আহযাব : ৫৯)

সম্মানিত পাঠক, ইনশাআল্লাহ, আজ আপনাদের সামনে এ আয়াতের আলোকে পর্দার বিষয়ে সামান্য আলোচনা করব। যাতে পর্দার জরুরি মাসআলাহগুলো নারী-পুরুষ সকলেরই জানা হয়ে যায়।

আল্লাহতা’আলা নারীদের পর্দার আদেশ দিয়েছেন কোরআনে কারীমের মাধ্যমে। আমি এখন যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি, তার মাঝেও পর্দার আদেশ রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি আয়াতে পর্দার আদেশ পরিষ্কারভাবে আছে। আর শরীয়তের মূলনীতি হলো, আল্লাহতা’আলা যখন কোনো কাজের আদেশ দেন, সেই কাজ ফরজ হয়ে যায়। নামাজের আদেশ আল্লাহতা’আলা কোরআনে কারীমে দিয়েছেন তাই মুসলিম নর-নারীর ওপর নামাজ ফরজ। রমজান শরীফের রোজার হুকুম আল্লাহতা’আলা কোরআনে কারীমে দিয়েছেন। তাই রমজানের রোজা নারী-পুরুষ সকলের ওপর ফরজ।

এমনিভাবে যাকাত ও হজের হুকুমও কোরআনে কারীমে এসেছে। এ কারণে এ চারটি বিধানই ফারায়েযে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহতা’আলা যেহেতু পর্দার আদেশ করেছেন, তাই পর্দা করাও ফরজ।

নামাজ না পড়া, রমজানের রোজা না রাখা, যাকাত ফরজ হওয়া সত্ত্বেও আদায় না করা, হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও আদায় না করা যেমন অনেক বড় গুণাহ, তেমনি পর্দা লঙ্ঘন করাও অনেক বড় গুণাহের কাজ। এ কারণেই পর্দা না করার ওপর হাদীস শরীফে ভয়াবহ শাস্তির সতর্কবার্তা এসেছে।

সুতরাং নামাজ-রোজার মত শরয়ী পর্দাও একজন মুসলিম নারীর জন্য অপরিহার্য। যারা শরয়ী পর্দা করছেন তারা আল্লাহতা’আলার শুকরিয়া আদায় করবেন। কারণ, তারা আল্লাহর একটি হুকুম মানার তাওফিক লাভ করেছেন। আর যে সকল নারী শরয়ী পর্দা করেন না তাদের কর্তব্য, শরয়ী পর্দায় এসে যাওয়া এবং একে অবশ্য-কর্তব্য মনে করা।

এক্ষেত্রে যে ত্রুটি হচ্ছে, একে ত্রুটি মনে করা এবং এর জন্য নিজেকে গুণাহগার মনে করা। আর আল্লাহতা’আলার কাছে দোয়া করা, হে আল্লাহ! আমি আমার ভুল স্বীকার করছি এবং আপনার এ বিধান যথার্থ ও অবশ্য-পালনীয় বলে বিশ্বাস করছি। আপনি আমাকে সৎ সাহস দান করুন, যাতে আমি এই বিধান মেনে চলতে পারি।

দেখুন, সব গুণাহগার এক প্রকারের নয়। এক প্রকারের লোক গুণাহ করে কিন্তু গুণাহকে গুণাহ মনে করে, নিজের ভুল স্বীকার করে এবং আল্লাহতা’আলার দরবারে মাফ চেয়ে বলেন, আল্লাহ! আমাকে এই গুণাহ থেকে বাঁচার হিম্মত ও তাওফিক দান করুন। আরেক প্রকারের লোক যে গুণাহ করে কিন্তু গুণাহকে গুণাহ মনে করেন না; বরং বলেন যে, এটা শরীয়তের বিধান নয়। এটা তো হুজুরদের বিধান, হুজুররা বানিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই দুই শ্রেণির মানুষের মাঝে আকাশ-জমিনের ব্যবধান। দ্বিতীয় ব্যক্তি শরীয়তের বিধান মানতে ও তার ওপর আমল করতে অস্বীকার করছেন এবং এ বিধানকে মনগড়া বলছেন। এ লোকের তো ঈমানই যাওয়ার পথে। আর প্রথম ব্যক্তি যে গুণাহ স্বীকারকারী অপরাধী তার তো কমপক্ষে ঈমান ঠিক আছে। আর যেহেতু সে গুণাহের কথা স্বীকার করছে তো ইনশাআল্লাহ একদিন তার গুণাহ থেকে সাচ্চা তওবা করারও তাওফিক হয়ে যাবে।

পর্দার বিষয়টিও এ রকম। কিছু লোক তো এমন যারা কোরআনে কারীম ও হাদীস শরীফ মানেন না। অথবা বিধান তো মানেন কিন্তু স্পষ্টভাবে বলে দেন যে, আজকের যুগে এটার ওপর আমল করা অসম্ভব। এরপর বিভিন্ন ধরনের অজুহাত খাড়া করেন। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ প্রবণতা। এ থেকে সকল মুসলিম নারী-পুরুষের বেঁচে থাকা দরকার।

হ্যাঁ, যদি সে নিজের দুর্বলতা কিংবা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে কোনো নারী শরয়ী পর্দা মেনে চলতে না পারেন এবং তার জন্য একেবারে পুরোপুরি শরয়ী পর্দার ওপর আমল করা কঠিন হয়ে যায়, তখন তার কর্তব্য, এ বিধানকে মনেপ্রাণে মেনে নেয়া এবং স্বীকার করা যে, হে আল্লাহ! নিঃসন্দেহে এটা আপনার আদেশ। আর আপনার আদেশ আমি শিরোধার্য করছি। কিন্তু, আমি অপরাধী, গুণাহগার। হে আল্লাহ, এ মুহূর্তে এ বিধানের ওপর আমল করা আমার জন্য কঠিন হচ্ছে। কিন্তু, আমি অঙ্গীকার করছি, আমি এ বিধান মেনে চলব এবং মেনে চলার জন্য পুরোপুরি চেষ্টা করব। হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন! আমার মনে সাহস দিন, আমার ঈমানকে শক্তিশালী করে দিন, যাতে আমি এ হুকুম পুরোপুরি মানতে পারি। অতঃপর যতদিন এ গুণাহ পুরোপুরি ছাড়তে পারছেন না ততদিন বারবার তাওবা করতে থাকবে এবং ছাড়ার চেষ্টায় থাকবে। আর প্রতিজ্ঞা করতে থাকবে যে, ইনশাআল্লাহ, আমি আমার পরিবেশকে পরিবর্তন করব এবং এ বিধানের ওপর পুরোপুরি আমল করব।

কোরআন-হাদীসের আলোকে মুসলিম নারীদের জন্য মূল বিধান হলো নিজের ঘরেই অবস্থান করা। তার ঘরে থাকাটাই পর্দার একটি প্রকার। তাই যথাসম্ভব মুসলিম নারীরা ঘরে থাকবেন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না।

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, ঘরে যেসব গাইরে মাহরাম (মাহরাম নয় এমন) পুরুষ থাকে তাদের সাথেও পর্দা করতে হবে। যেমন দেবর, ভাসুর ইত্যাদি। এমনিভাবে যে সকল গাইরে মাহরাম পুরুষ ঘরে আসা-যাওয়া করে যেমন স্বামীর চাচা, জ্যাঠা, মামা, তাদের সাথেও পর্দা করতে হবে। এই আত্মীয়দের সাথে পর্দা করার পদ্ধতি হলো, নিজ কামরা থেকে বের হওয়ার সময় যদি মনে হয় কামরার বাইরে গাইরে মাহরাম কেউ আছেন তখন কারও মাধ্যমে বা কোনো সংকেত ব্যবহার করে তাদের সরতে অনুরোধ করবে। তা যদি সম্ভব না হয় আর তাৎক্ষণিক বের হওয়া জরুরি হয় তাহলে বড় ওড়না বা চাদর দিয়ে মাথার চুল, ঘাড়, উভয় হাতের বাহু আবৃত করে নিবে। চেহারার ওপরও নেকাব ফেলে নিতে হবে। এভাবে জরুরতের সময় নিজ কামরা থেকে বের হওয়া যাবে।

কিছু গাইরে মাহরাম এমন আছেন, যারা ঘরের লোক না হলেও আত্মীয়তার কারণে ঘরে আসা-যাওয়া করেন। যেমন: স্বামী বা স্ত্রীর চাচাতো ভাই, জ্যাঠাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই ইত্যাদি। এদেরকে ‘আত্মীয়ের ভাই’ বলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের সাথে বিশেষ পর্দা মেনে চলা হয় না। অথচ এদের সাথেও পর্দা করা ফরজ। এদের সাথে পর্দা রক্ষার উপায় এই যে, ঘরের কর্তাব্যক্তিরা সকলে একবার বসে স্থির করবে যে, এখন থেকে ইনশাআল্লাহ আমাদের ঘরে পর্দা পালিত হবে। সুতরাং গাইরে মাহরাম আত্মীয়-স্বজন যারা আছেন, যারা ঘরে আসা-যাওয়া করেন, সামনে থেকে তারা যখন আসবেন তাদেরকে বৈঠকখানায় বসানো হবে। যারা এখন সোজা ঘরের ভিতরে চলে যান তাদেরকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে যেন, সামনে থেকে তারাও পর্দা রক্ষায় সচেতন হয়।

কোনো গাইরে মাহরাম পুরুষ ঘরে এলে- অনাত্মীয় হোক বা আত্মীয়, তিনি পুরুষের সাথেই সাক্ষাৎ করবেন। ঘরের গাইরে মাহরাম মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন না। হ্যাঁ, যদি মাহরাম হয়ে থাকেন তাহলে তার মাহরাম মহিলাদের সাথেও সাক্ষাৎ করতে মানা নেই। তো এভাবে একবার সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তাহলে মহিলাদের জন্য গাইরে মাহরাম পুরুষদের সাথে পর্দা করা সহজ হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর গাইরে মাহরাম আত্মীয়-স্বজন, স্বামীর গাইরে মাহরাম আত্মীয় স্বজন, যেমন স্বামীর চাচা, জ্যাঠা, খালু, ফুফা, মামা অথবা স্ত্রীর খালু-ফুফা খালাতো ভাই, জ্যাঠাতো ভাই, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই প্রমুখ বেড়াতে এলে এদের সাথে শুধু ঘরের পুরুষরাই সাক্ষাৎ করবে এবং তাদের পুরুষদের কামরাতেই বসানো হবে। ঘরের মহিলাদের তাদের সাথে জরুরতবশত কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলবে। অথবা ফোনে বা ইন্টারকমে কথা বলবে।

এই পদ্ধতি কিছুদিন একটু আশ্চর্যের মনে হবে। কিন্তু, ভিতরে আপনার কাছেও স্বস্তিকর মনে হবে। মহিলারাও এতে শান্তি ও তৃপ্তি পাবে। সবচেয়ে বড় কথা হল, শরয়ী পর্দা পালিত হবে এবং বেপর্দার গুণাহ থেকে নারী-পুরুষ সকলেই রক্ষা পাবে। তাই এজন্য নারীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে আর পুরুষদেরও তাদের সাহায্য করতে হবে। এভাবে পরস্পরের মাঝে সবকিছু সিদ্ধান্ত হয়ে জানাজানি হয়ে গেলে এরপর আর কোনো অসুবিধা থাকবে না। কিন্তু, যদি নারী-পুরুষরা এ কাজের জন্য তৈরি না হয় তাহলে সারা জীবন পর্দা লঙ্ঘনের গুণাহ হতে থাকবে।

কবি বলেন, ‘তুমিই যদি না চাও তাহলে বাহানা তো হাজার হাজার, হে খাজা, ব্যথাই তো নেই, নতুবা চিকিৎসক তো প্রস্তুত।’

এখন যেহেতু গুণাহের অনুভূতি নেই এবং ওই গুণাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা ও ফিকির নেই এ কারণে বাঁচাটা কঠিন মনে হয়। নতুবা গুণাহ থেকে বাঁচার সহজ উপায় তো আছে।

কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া নারীদের জন্য জায়েজ। তবে শরয়ী পর্দার সাথে বের হতে হবে। শরয়ী পর্দা সম্পর্কে কিছু মৌলিক বিষয় এখানে বলা হচ্ছে;

১। প্রথম কথা হলো, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মোটা বড় চাদর বা বোরকা দ্বারা ভালভাবে আবৃত হয়ে বের হবে। রাস্তা দেখার জন্য শুধু চোখ খোলা রাখার অনুমতি আছে। উত্তম হল, চেহারার ওপর এমন নেকাব দিয়ে দেবে যার দ্বারা পর্দাও হয়ে যায়, রাস্তাও দেখা যায়।

২। চাদর বা বোরকা এতটুকু লম্বা ও মোটা হবে, যাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীর বা পোশাকের কোনো অংশ বের না হয়। বোরকা পাতলা হলে শরীর ও পোশাক দেখা যাবে। এর দ্বারা পর্দার উদ্দেশ্য অর্জন হবে না। আর চাদর বা বোরকা কালো রঙেরও হতে পারে, সাদা রঙেরও হতে পারে। কোনো বিশেষ রঙ জরুরি নয়।

৩। বোরকা বা চাদর চমকদার ও কারুকার্যখচিত না হওয়া উচিত। কেন না নারীদের আদেশ দেয়া হয়েছে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিজের সজ্জা ও সৌন্দর্য আবৃত করে বের হওয়ার। সাধারণত নারীর লেবাস-পোশাকও সুন্দর হয়, অলংকারাদিও সুন্দর হয়, বেশভুষাও সুন্দর হয়। এই সবকিছুকে ঢেকে বের হওয়ার আদেশ করা হয়েছে। তাই বোরকার কাপড় খুব সুন্দর ও ফুল দ্বারা ডিজাইন করা না হওয়া চাই। বরং বোরকা একেবারে সাদাসিদা হওয়া চাই। আর তা এতটুকু বড় হওয়া চাই যে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীর আবৃত হয়।

৪। বোরকা এতটুকু ঢিলেঢালা হতে হবে, দেহের বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন বোঝা না যায়। বোরকা টাইট হলে পর্দার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। শরীরের গঠন, অবয়ব ফুটে ওঠে। ফলে পর্দার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাই বোরকা খুবই ঢিলেঢালা হওয়া চাই।

৫। বোরকার উপরে বা ভিতরের পোশাকে বা শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার না করা। হ্যাঁ, যদি এমন কিছু ব্যবহার করা হয় যার সুবাস ছড়ায় না তাহলে সমস্যা নেই। যে সুগন্ধি বাইরে ছড়ায় তা ব্যবহার করে বাইরে গমনকারী নারীদের ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে। তাই এ রকম খুশবু লাগিয়ে বাইরে বের হওয়া জায়েজ নয়। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ব্যাভিচারিণী বলেছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৮৬)

মোট কথা, উপরের পাঁচটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে নারীরা প্রয়োজনের সময় ঘর থেকে বের হতে পারবে; যখন বাহিরের জরুরি কাজ করে দেয়ার মত কোনো পুরুষ ঘরে না থাকে।

দেখুন, কোনো নারীর ওপর যদি হজ ফরয হয় কিন্তু, হজের সফরের জন্য তার কোনো মাহরাম না থাকে, যেমন স্বামী যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। অথবা তার মাহরাম যেমন বাপ, ভাই, আপন ভাতিজা, আপন ভাগিনা থাকে কিন্তু তাদের কেউই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয় কিংবা তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার মত অর্থও কাছে নেই। এমতাবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে ওই নারীর হজে যাওয়ার অনুমতি নেই। কেন না এই অবস্থায় তার জিম্মায় হজ আদায় করাই জরুরি নয়। তার জন্য শরয়ী বিধান হলো, মাহরামের অপেক্ষা করবে। যদি মাহরাম মিলে যায় কিংবা স্বামী সাথে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় তাহলে তার সাথে হজ করতে যাবে। যদি মাহরাম পাওয়া না যায় তাহলে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করার ওসিয়ত করে যাবে যে, আমার উপর হজ ফরয ছিল। কিন্তু, আমি হজ করার জন্য সাথে মাহরাম পাইনি। তাই আমি ওসিয়ত করছি, আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদ থেকে বদলি হজ করানো হবে।

এটা হলো, শরীয়তের বিধান। শরীয়ত এটা বলেনি যে, যখন তোমার ওপর হজ ফরজ এবং তুমি মাহরাম পাচ্ছ না, তাহলে মাহরাম ছাড়াই হজে চলে যাও। এই সকল সতর্কতা ও পরিপূর্ণ পর্দার বিধান এজন্যই দেয়া হয়েছে, যাতে নারীর ইজ্জত-আব্রুর পরিপূর্ণ হেফাজত হয়।

এ কারণে যে সকল নারী ঘরের ভেতরে গাইরে মাহরাম পুরুষদের সাথে পর্দা করে না কিংবা যে সকল নারী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পর্দা করে না তাদের ব্যাপারে হাদিসে অনেক কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী এসেছে। তারা যেন সেগুলো পড়ে নেয় এবং বেপর্দার গুণাহ থেকে বেঁচে থাকে এবং শরয়ী পর্দার পুরোপুরি এহতেমাম করে। আল্লাহ তা’আলা তাওফিক দান করুন, আমীন।

x

Check Also

হালাল উপার্জনেও জিহাদের সওয়াব হাসিল হয়!

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আল্লাহ ফরজ ইবাদত (যেমন : সালাত) সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই জীবিকা অন্বেষণ ...

Scroll Up