উচ্চাভিলাষী বাজেট, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না : রওশন

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী, এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন বলেন, গতবারের চেয়ে এবারের বাজেটে অনেক বেশি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এবারের বাজেট অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী। গতবারেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি; এবারেও পারবে না।

তিনি বলেন, বড় বাজেট দেওয়াটা বিশাল কথা নয়, বাস্তবায়নটাই আসল কথা।

Rowshan-Ershadপ্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ফর্দ ধরে বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই ব্যয় মেটাতে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন বলেন, জিডিপির পাঁচ শতাংশ ধরে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে বিদেশি উৎস ছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

এতো ঘাটতি মাথায় নিয়ে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রার পথ রচনা কীভাবে সম্ভব?

রওশন এরশাদ বলেন, বাজেটে আয়-ব্যয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাই না। এত বড় বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন দেখছেন, জনগণ কী দেখতে পারছে?

তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে সেটা কীভাবে আসবে? মানুষের যে গড় বার্ষিক আয় তাতে সে কীভাবে ট্যাক্স দেবে?”

সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এবং ৭.২% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। চলতি বাজার মূল্যে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকার ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়া ও বিনিয়োগ বোর্ডের অদক্ষতা এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধা।

Rowshan-Ershad-2তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ডে যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে। আমি পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। ফাইল পড়ে থাকে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রয়েছে। বিদেশিরা তো দূরের কথা দেশের লোকই বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছে না। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান হবে না।

উন্নয়ন কর্মসূচিতে তুলনামূলক আমাদের ব্যয় বেশি ধরা হয় উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে পাশের দেশগুলোতে যে টাকা লাগে আমাদের সেখানে অনেক বেশি টাকা লাগে। এসময় তিনি মোবাইল ফোনে ওপর বর্ধিত সম্পূরক শূল্ক প্রত্যাহার, শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ নানা দাবি তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ার বাজারের জন্য বিশেষ কিছু না থাকা, রিজার্ভ চুরি, এটিএম বুথ থেকে টাকার চুরি- এসব নিয়ে কোনো বক্তব্য না থাকার সমালোচনাও করেন। সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টি বাজেট বাস্তবায়নের দায় নেবে কিনা?

এমন প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেন, প্রশ্নতো আছেই। আলোচনা করে আপনাদের জানাবো।

তিনি বলেন, সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় তার দল প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর, ফখরুল ইমাম ও নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি প্রমুখ।

x

Check Also

৪৭ বছরে বাজেটের আকার বাড়লো প্রায় ৬০০ গুণ

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ১৯৭১ সালে মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা ...

Scroll Up