উত্তর কোরিয়ার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি

13

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হান সং রিয়ল বিবিসিকে বলেছেন, “পিয়ংইয়ং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাবে।” আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও তারা এসব তৎপরতা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।

হান সং রিয়ল বলেন, “সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক-ভিত্তিতে আমরা আরো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবো। যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যাবে।”

গতকাল সোমবার জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত কিম ইন রিয়ং সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানান। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত একটি শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার জেরে সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোকে আক্রমণ করার জন্য গুন্ডার মতো জবরদস্তিমূলক যুক্তি দেখিয়ে বিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এসব হামলা অবধারিত বলে দাবি করছে।”

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষা না করতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ধৈর্যের যুগ শেষ। যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা সহ্য করবে না। উত্তর কোরিয়ার ওপর কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টাও দ্বিগুণ করব।”

কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত শনিবার পিয়ংইয়ং ব্যাপক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করে। পরদিন তারা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তবে এই পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। এখন দেশটি ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি দিল।

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে পাঁচটি পারমাণবিক পরীক্ষা এবং একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

গত রবিবার উত্তর কোরিয়ার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর পেন্স দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল পৌঁছান।

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার পাল্টাপাল্টি কথা চালাচালির মধ্যে দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান উত্তেজনা দিন দিন আরো তীব্র হয়ে উঠছে।