উভয়সংকটে চীনের প্রথম সারির ব্যাংকগুলো

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলো ঋণ সরবরাহের চাপে রয়েছে। মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার যেসব আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার বেশির ভাগই ব্যাংকঋণ আকারে। আর এসব ঋণসহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোয় নগদ অর্থের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকতে হবে। এ কারণে বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ হিসাব বছরের লভ্যাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। কিছু দেশে আবার লভ্যাংশের পরিমাণও কমানো হয়েছে।

তবে চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে বিপাকে রয়েছে। নভেল করোনা ভাইরাসের উৎস দেশটির প্রথম সারির চারটি ব্যাংক সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। চীনের ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী কমিউনিস্ট পার্টি চায়, ব্যাংকগুলো এ লভ্যাংশ বিতরণ করুক।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি) লিমিটেড, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশনসহ শীর্ষ চার ব্যাংক গত বছরে তাদের মুনাফার ৩০ শতাংশের বেশী শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে ফেরত দিচ্ছে। এক্ষেত্রে গড় ডিভিডেন্ড ইল্ড দাঁড়াচ্ছে ৬ শতাংশ। চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তা প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে করোনার প্রভাবে চীনা ব্যাংকগুলো লাখ লাখ কোটি ইউয়ানের ক্রেডিট লসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলো নিজেদের মূলধন ভিত্তি দুর্বল করে হলেও লভ্যাংশ প্রদানের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার, বিশেষ করে সরকারকে খুশি রাখতে চাইছে। বিষয়টা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে অনেক।

বেইজিংয়ে মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিসের বিশ্লেষক নিকোলাস ঝু বলেছেন, ‘উচ্চহারে লভ্যাংশ প্রদানকে চীনা ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) অংশ হিসেবে দেখে।করোনার কারণে ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে মূলধন সংকটের দিকে ধাবিত হবে। এ কারণে চীনে লভ্যাংশ কর্তনের প্রক্রিয়াটিও তাৎক্ষণিক না হয়ে ধাপে ধাপে দেখা যেতে পারে।’

সংকটের মধ্যে নগদ মূলধনপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ বাতিল করেছে। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকগুলোকে মূলধন সঞ্চিতি বাড়াতে বলেছে। ওইসব দেশের ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ একেবারে বাতিল না করলেও পরিমাণ কমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানিসহ শীর্ষ আট ব্যাংক এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও নগদ মূলধনপ্রবাহ ধরে রাখতে তারা শেয়ার পুনঃক্রয় বাতিল করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতির তাগিদে চীনও হয়তো লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সমস্যা হলো, বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই সরকার ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা যায়। চীনের শীর্ষ চার ব্যাংকের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শেয়ারের মালিক অর্থ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত সার্বভৌম সম্পদ তহবিল। তারা চায় লভ্যাংশ বিতরণের রীতি চালু থাকুক। তবে অন্যান্য দেশের মতো চীনের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চায়না ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশনের (সিবিআইআরসি) অবস্থান, মূলধন সঞ্চিতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পক্ষে।

এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র বলেছে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যাংককে লভ্যাংশ সমন্বয়ের জন্য নির্দেশ দেয়নি। তবে শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি তাদের আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে লভ্যাংশ ঘোষণাই করেছে অন্যবারের চেয়ে কম। এদিকে লভ্যাংশ সমন্বয়ের বিষয়ে সিবিআইআরসি এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমকে কোনো মন্তব্য জানায়নি।

চীন যে এর আগে কখনই লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ কমায়নি, তা নয়। ২০১৫ সালে এমনটি দেখা গিয়েছিল। মন্দ ঋণ বেড়ে যাওয়া ও মুনাফা প্রবৃদ্ধি থমকে যাওয়ায় সে বছর ব্যাংকগুলো তাদের মোট অর্জিত মুনাফার ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করেছিল। তার আগের বছর এ হার ছিল ৩৩ শতাংশ।

– ব্লুমবার্গ অবলম্বনে।

x

Check Also

ঈদুল আজহা

বাংলাদেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

এমএনএ জাতীয় রিপোর্টঃ আজ শনিবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যথাযথ ধর্মীয় ...

Scroll Up
%d bloggers like this: