একযোগে ৯৯টি দেশে ভয়াবহ সাইবার হামলা

64

এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে একযোগে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অন্তত ৯৯টি দেশের কম্পিউটার ব্যবস্থায় হানা দিয়েছে হ্যাকাররা।

গতকাল শুক্রবার হ্যাকিংয়ের শিকার দেশগুলোর তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইতালি ও তাইওয়ানের মতো উন্নত প্রযুক্তির রাষ্ট্রও। অনেক দেশের স্বাস্থ্য, টেলিকম বা যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত এই হামলার শিকার হয়েছে।

এসব দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে বড় ধরণের হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। দেশটির হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে রাখতে হয়। স্পেনের টেলিকম ও জ্বালানি সেক্টরের বেশ কয়েকটি কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের ডেলিভারি কোম্পানি ফেডএক্স এই হামলার শিকার হয়েছে।

বিবিসির প্রযুক্তি সংবাদদাতা জোয়ি ক্লেইনম্যান বলছেন, ‘র‍্যানসমওয়্যার’ হচ্ছে এমন এক ধরণের ম্যালওয়ার বা ভাইরাস, যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেক সময় হার্ডডিস্কের অংশ বা ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে অবোধ্য করে ফেলে। পরে ওই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফেরত দেয়ার জন্য মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হয়। ‘ট্রোজান ভাইরাসের’ মতো এ ধরণের ম্যালওয়ার এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাভাস্ট বলছে, ওয়ানাক্রাই এবং ভ্যারিয়্যান্ট নামের র‍্যানসমওয়্যারের শিকার ৭৫ হাজার কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। সংস্থাটির ম্যালওয়্যার বিশেষজ্ঞ জ্যাকব ক্রুসটেক বলছেন, এটা বিশাল একটা ব্যাপার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে মিল দেখা গেলেও, নির্দিষ্ট করে কোন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর তৈরি করা একটি টুল ব্যবহার করে এই সাইবার হামলা চালানো হয়। গত এপ্রিলে শ্যাডো ব্রোকারস নামের হ্যাকাররা ওই প্রযুক্তিটি চুরি করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। গত মার্চে এটি ঠেকাতে একটি নিরাপত্তা প্যাচ ছাড়ে মাইক্রোসফট, কিন্তু অনেক কম্পিউটার তাতে আপডেট করা হয়নি।

হ্যাকারদের ছড়িয়ে দেওয়া এক সফটওয়্যারে দৃশ্যত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো স্থানের কম্পিউটার ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওয়েবসাইট অচল করে দিয়ে তার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডিজিটাল মুদ্রা ‘বিট কয়েনের’ মাধ্যমে ৩০০ মার্কিন ডলার দাবি করে। বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে একযোগে কাজ শুরু করেছেন অনেক প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষক।

এ আক্রমণের পর ইয়াকুব রৌসতেক নামের একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ টুইট করেন, র‍্যানসমওয়্যার দিয়ে (ওয়ানাক্রাই বা আরও একাধিক নামে পরিচিত) কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের হাজার হাজার ঘটনা তিনি শনাক্ত করেছেন। ইন্টারনেট নিরাপত্তাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভাস্টের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এটা অনেক বড় হামলার ঘটনা।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, র‍্যানসমওয়্যার হচ্ছে পরিচিত ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রোগ্রাম। কম্পিউটার বা মুঠোফোনের মতো যন্ত্রের মধ্যে এই সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দিতে পারলে যন্ত্রটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া যায়। এ কাজ করে তা থেকে মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করে হ্যাকাররা।

সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত ৯৯টি দেশের কম্পিউটারে র‍্যানসমওয়্যার প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এই আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে।

এদিকে, জানা যাচ্ছে যে, এই র‍্যানসমওয়্যারে বিট কয়েনের যেসব ওয়ালেটে অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে, সেখানে নতুন করে মোটা অর্থ জমা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। – তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন