একীভূত হচ্ছে টেলিনর-আজিয়াটা

এমএনএ রিপোর্ট : গ্রামীণফোন ও রবির মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর ও আজিয়াটা একীভূত হতে যাচ্ছে। নরওয়ের টেলিনর ও মালয়েশিয়ার আজিয়াটা এশিয়াতে তাদের অবকাঠামোগুলো যৌথভাবে ব্যবহার করবে বলে আলোচনা চলছে। খবর বিবিসির।

নতুন এই উদ্যোগের সম্ভাব্য নাম মার্জকো। প্রস্তাবিত এই কোম্পানির মূল কার্যালয় হবে মালয়েশিয়াতে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে টেলিনর ও আজিয়াটা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মার্জকোর মালিকানায় বড় অংশীদার হবে টেলিনর। তাদের মালিকানার পরিমাণ হবে ৫৬.৫ শতাংশ। বাকি ৪৩.৫ শতাংশের অংশীদার হবে আজিয়াটা। এশিয়ার দেশগুলোতে এই দুটি কোম্পানির ৬০ হাজারের মতো টাওয়ার রয়েছে।

তবে দেশের দুটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের একত্রে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদন দেবে কি-না তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ৭ কোটি ৪০ লাখ, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন সেবাগ্রহীতার ৪৬ শতাংশের বেশি। আর রবির সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ, যা দেশের মোট গ্রাহক সংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ।

টেলিনর বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও মিয়ানমারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে আজিয়াটার ব্যবসা রয়েছে মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়াতে।

এশিয়াতে এই দুই কোম্পানির যত অবকাঠামো রয়েছে, তা একসঙ্গে ব্যবহার করতেই এমন আলাপ বলে টেলিনরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।

টেলিনর আজ সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, চুক্তি চূড়ান্ত হলে কোম্পানির বড় অংশীদার হবে তারা। এতে টেলিনরের ৫৬.৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে। আর আজিয়াটার হাতে থাকবে বাকি ৪৩.৫ শতাংশ শেয়ার।

চূড়ান্ত আলোচনা হলে এশিয়াতে দুই কোম্পানির টেলিকম ব্যবসা ও অবকাঠামো মিলে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করা হবে।

সেক্ষেত্রে নয়টি দেশে ৩০ কোটি গ্রাহক নিয়ে নতুন ওই কোম্পানি হবে এশিয়ার টেলিকম খাতের অন্যতম বৃহৎ শক্তি।

নরওয়ে ও মালয়েশিয়ার এ দুই কোম্পানির হাতে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই মোবাইল কোম্পানির মালিকানার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক আট শতাংশ শেয়ারের মালিক টেলিনর। আর দ্বিতীয় বৃহত্তর মোবাইল অপারেটর রবির ৬৮.৭ শতাংশের মালিকানা আজিয়াটার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টেলিনর জানিয়েছে, দুই কোম্পানির এশিয়ায় ব্যবসা একীভূত হলেও আলাদা কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাবে রবি এবং এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে আজিয়াটার হাতে।

সাত কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। দেশের মোট মোবাইল ফোন সেবাগ্রহীতার ৪৭ শতাংশের বেশি গ্রামীণফোনের।

চার কোটি ৭৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে দেশের মোট গ্রাহক সংখ্যার ৩০ শতাংশ রবির।

ইতিমধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধর (এসএমপি) অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে গ্রামীণফোনকে। গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণফোনকে দেশের প্রথম এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাজারে গ্রামীণফোনের রাজস্ব শেয়ার ৫০ শতাংশ ও গ্রাহক ৪৭ শতাংশের বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশে কোনো অপারেটর বাজারের একটি বড় অংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ করলেই সেটিকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়।

বিটিআরসির প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে- খুচরা মোবাইল সেবাসংশ্লিষ্ট বাজারের নির্ণায়কসমূহ তথা গ্রাহক সংখ্যা, অর্জিত রাজস্ব ও কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত তরঙ্গ- এই তিনটি নির্ণায়কের মধ্যে কোনো মোবাইল অপারেটর ন্যূনতম একটিতে মোট বাজারের অন্তত ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেই সেটিকে এসএমপি হিসেবে নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

এর মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এসএমপির শর্তের মধ্যে পড়েছে গ্রামীণফোন।

x

Check Also

ক্যাসিনো খালেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ...

Scroll Up