এবার চীনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

38
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই চীনের সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চীন সফরে গিয়ে সে সুর তিনি বদলেছেন।
এখন বাণিজ্য ঘাটতি ও উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য চীনের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প।
আজ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাণিজ্য ঘাটতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনগুলোকে দায়ী করেছেন; ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ায় চীনকে দোষ দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য তার।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২৫০ কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের নেওয়া পদক্ষেপেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চীনের প্রেসিডেন্টকে ‘আরো কিছু’ করারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
এশিয়া সফরের মাঝামাঝি গতকাল বুধবার চীন পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বেইজিংয়ে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়; পতাকা উড়িয়ে শিশুরা ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়াকে স্বাগত জানায়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ওই চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়া ও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, চীন চাইলে উত্তর কোরিয়া সমস্যার দ্রুত ও সহজ সমাধান করতে পারে।
এ বিষয়ে বেইজিং সাধ্য অনুযায়ী সব করছে বলে দাবি করে আসলেও ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টকে ‘আরো বেশি কিছু’ করার অনুরোধ জানান।
বক্তব্যে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে আনায় শি জিনপিংকে বেশ কয়েকবার ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রত্যুত্তরে শি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘের অবরোধ পূর্ণ কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অন্যায্য ও একপাক্ষিক’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ জন্য আগের মার্কিন প্রশাসনগুলোকেই দায় দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনকে দায়ী করছি না। কেই-বা একটি দেশকে তার দেশের জনগণের সুবিধার জন্য অন্য দেশের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ায় দায়ী করবে। আমি চীনকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ‘

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতির জন্য চীনকে দায়ী করেছেন। গত বছর ট্রাম্প এ বিষয়ে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যও করেছিলেন। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি সহ্য করা হবেনা বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
বেইজিংয়ে নামার পর থেকে ট্রাম্প টুইটারে চীনের অভ্যর্থনার প্রশংসা করে যাচ্ছেন। চীনে টুইটার নিষিদ্ধ থাকলেও ট্রাম্পের টুইটে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।