এবার রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

83

এমএনএ রিপোর্ট : গোপালগঞ্জে ভ্যানে উঠে ঘুরে বেড়ানোর পর এবার নেত্রকোনায় রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার নেত্রকোনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় ওঠেন তিনি। ভ্যানের পর রিকশার চড়ার প্রধানমন্ত্রীর এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেওয়া হবে কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রিকশাটি টিপু সুলতানকে দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গিয়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে রিকশা ভ‌্যানে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিন প্রধানমন্ত্রী অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে নেত্রকোনায় যান। সেখানে খালিয়াজুরীর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পৌঁছান। খালিয়াজুরী কলেজমাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। ১১টা ৬ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তিনি হাওরের বিভিন্ন বিষয় ও দুর্গতদের সহায়তা নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে প্রায় ৪৪ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

পরে খালিয়াজুরী উপজেলা কলেজ মাঠে ফসলহারা কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ১ হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মধ্যে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং এক হাজার টাকা করে ত্রাণ দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন।

দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দুটি রিকশা বিতরণ করেন। এ সময় তিনি একটি রিকশায় চড়েন। নেত্রকোনার খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে থানা মোড় পর্যন্ত যান। আনুমানিক ১০ মিনিট রিকশায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশার চালক ছিলেন টিপু সুলতান। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম পরিচয় জানতে চান। পড়াশোনা কত দূর পর্যন্ত করেছেন—খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীকে টিপু সুলতান বলেন, তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবা-মাসহ (পাঁচ ভাই পাঁচ বোন) তার পরিবারের সদস্য ১২ জন। এরপর প্রধানমন্ত্রী টিপু সুলতানকে তিন হাজার টাকা উপহার দেন।

রিকশা চালক টিপু সুলতান যে রিকশাটি চালিয়েছেন, সেটিসহ তিনটি রিকশা জেলা প্রশাসন এনেছিলেন। এর একটি রিকশায় টিপু সুলতান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে ডাকবাংলো পরিষদ পর্যন্ত নিয়ে যান।

এ বছর মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। নষ্ট হয় হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। মৎস্য সম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ এপ্রিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে যান। বন্যার পর আজকের সফরটি হাওরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর।

প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুর কাদের, দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন।

উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।