এমপি লিটন হত্যায় ৭ জনের ফাঁসির আদেশ

এমএনএ রিপোর্ট : বহুল আলোচিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন।

গত ১৯ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করা হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী একই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান, তার ভাতিজা মেহেদি, তার ব্যক্তিগত সহকারী শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আব্দুল হান্নান, কাজের লোক মেহেদী, ডিস ব্যবস্যায়ী শাহিন, রানা ও চন্দন কুমার রায়।

এ মামলার আরেক আসামি সুবল চন্দ্র আগেই মারা গেছেন।

এদের মধ্যে চন্দন কুমার ভারতে পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামির মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান, তার ভাতিজা মেহেদি, তার ব্যক্তিগত সহকারী শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আব্দুল হান্নান, কাজের লোক মেহেদী, ডিস ব্যবস্যায়ী শাহিন ও রানা জেলা কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে গত ১১ জুন লিটন হত্যার ঘটনায় দায়ের অস্ত্র মামলায় একমাত্র আসামি কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের পর দুটি মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে একটি অস্ত্র ও অপরটি হত্যা মামলা। অস্ত্র মামলায় একমাত্র আসামি ওই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

পাশাপাশি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খানসহ আটজনের বিরদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার হত্যা মামলার রায়ে কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ সাতজনকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। মামলার আট নম্বর আসামি কসাই সুবল সম্প্রতি কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল প্রথম দফায় আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বাদী নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ পর্যন্ত ৫৯ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। গত ৩১ অক্টোবর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

চলতি বছরের ১৮ ও ১৯ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি শফিকুল ইসলাম শফিক। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ১৮ মাস যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর অবশেষে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে কয়েকজন দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন লিটন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় পরদিন ১ জানুয়ারি লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

x

Check Also

বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায়ের জীবনাবসান

এমএনএ রিপোর্ট : একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থ বিজ্ঞানের বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায় (৮৫) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ...

Scroll Up