এরশাদের আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

এমএনএ রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর (শনিবার) আসনে ভোট হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে এই আসনে।

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আজ রবিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান এ তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ওই আসনের সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে।

তফসিল ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, শূন্য আসনটিতে ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১১ সেপ্টেম্বর (বুধবার)। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ১৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ হবে ৫ অক্টোবর (শনিবার)। ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রংপুর-৩ উপনির্বাচনে প্রত্যেক কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। মক ভোটিংসহ সবকিছুই যথাসময়ে সম্পন্ন হবে। এই আসনে ভোট হবে ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। প্রশাসনিক কারণেই এটি করা হচ্ছে। নির্বাচনী সরঞ্জামাদি যথাসময়েই পৌঁছাবে। এটি যেহেতু সিটি এলাকা, অল্প সময়ে পৌঁছানো যাবে।’

এই শূন্য আসনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং রংপুরের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও রংপুর সদরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলা এবং ১ থেকে ৮ নম্বর ছাড়া রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত এলাকা নিয়ে এই আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ জন। এই আসনে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ১৩০টি, ভোটকক্ষ ৯১০টি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ সদর আসনে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের কাজী আব্দুল কাদের, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল গাণি স্বপন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০১ সালে জিএম কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে রওশন এরশাদ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এ আসনের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত ১৪ জুলাই চিকিৎসাধীন রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। গত ১৬ জুলাই রংপুরে সমাধিস্থ করা হয় এরশাদকে। ওই দিন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৩০ আষাঢ় ১৪২৬/১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখ পূর্বাহ্নে মৃত্যুবরণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদের রংপুর-৩ আসনটি উক্ত তারিখে শূন্য হয়েছে।’ আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

x

Check Also

আজ বুধবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার। নতুন সূর্যালোকে আজ বুধবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up