ঐশীকে ১০ এপ্রিল আদালতে হাজিরের নির্দেশ

এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর মালিবাগে পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় তাদের সন্তান ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ঐশীর করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর শুনানিকালে আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির। ঐশীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

জহিরুল হক জহির বলেন, হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্সের শুনানিতে ঐশীকে ১০ এপ্রিল আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। তাঁকে পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী বলেন, ‘ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার এক রিপোর্টে তথ্য পাওয়া যায়, ওই ঘটনার সময় সে মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না। এটি আদালতে তুলে ধরেছি। এরপর আদালত তাকে হাজির করতে বলেছেন।’

এর আগে গত ১২ মার্চ ঐশীর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর শুনানি হয় আদালতে। ওই দিন ৩ এপ্রিল আবার শুনানির তারিখ ধার্য করেন আদালত।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগে একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান ওই দিনই পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ২৪ আগস্ট ঐশী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে পরে তিনি ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারেরও আবেদন করেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র দেন।

পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আাদালত। এ ছাড়া ঐশীকে আশ্রয় দেয়ায় তার বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেন আদালত।

নিজের বাবা-মাকে হত্যার প্রধান আসামি পুলিশ কর্মকর্তার একমাত্র কন্যা বিচারিক আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের সাজার খালাস চেয়ে করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্স আবেদন হাইকোর্টে শুনানি চলছে। মামলার শুনানিকালে আদালত এ আদেশ দেন।

একই বছরের ১৯ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে এবং পরে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন ঐশী। মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। এসবের শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক (মামলা-বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করা হয়। এরপর ওই বেঞ্চ শুনানির জন্য আসে।

x

Check Also

জামিন নামঞ্জুর কারাগারে ক্যাসিনো সম্রাট

এমএনএ রিপোর্ট : ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ...

Scroll Up