ও’কিফ স্পিন জাদুতে মাটিতে নামল ভারত

45

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ও’কিফ স্পিন জাদুতে মাটিতে নামল টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর ভারত। সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তিন দিনেই হেরে গেছে ভারত। দুই ইনিংসে মিলিয়ে ‘নাম্বার ওয়ান’ ভারতের সংগ্রহ মাত্র ২১২ রান।

৪৪১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১০৭ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা। নিজেদের মাঠে ৩৩৩ রানের বড় ব্যবধানে হারল ভারত। এটাই নিজেদের মাটিতে ভারতের সর্বোচ্চ লজ্জার হার।

আম্পায়ারের আঙুল যখন উঠছে, অস্ট্রেলিয়ানরা তখন উড়ছে। উল্লাস বাঁধনহারা। প্রায় সব ফিল্ডার ছিলেন কাছাকাছিই। সবাই এক হয়ে আনন্দ জটলায় চলল উৎসব। শেষ উইকেটটি নিলেন নাথান লায়ন। তার পিঠ চাপড়ানো শেষে উদযাপনের মধ্যমণি স্টিভেন ও’কিফ। তার স্পিনেই তো ধ্বংস ভারত!

দেশের মাটিতে গত প্রায় ৫ বছরে হারেনি ভারত। টানা ২০ টেস্টে হার নেই দেশ-বিদেশ মিলিয়ে। ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ টেস্ট জয় ১৩ বছর আগে। এশিয়ায় হেরেছে টানা ৯ টেস্ট। মাত্র তিনদিনেই একসঙ্গে উল্টে গেল সব!

সময় লাগল আসলে আরও কম। দুই দিন আর দুই সেশনের একটু বেশি। তাতেই পুনে টেস্টের যবনিকা। ভারতকে ৩৩৩ রানে উড়িয়ে দিয়ে চার ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ছেদ পড়ল ভারতের অপরাজেয় যাত্রায়।

স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ সেঞ্চুরি ভারতের লক্ষ্যটাকে নিয়ে গিয়েছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুই স্পিনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুধু জয়ই এলো না, টার্নিং উইকেটে ভারতকে মাড়িয়ে, গুঁড়িয়ে, বিধ্বস্ত করে ছাড়ল অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংসের সাফল্য যে হুট করে পাওয়া নয়, সেটি প্রমাণ করতেই যেন আবারও ঠিক ৩৫ রানেই ৬ উইকেট নিলেন ও’কিফ। শেষ তিনটিসহ লায়ন নিয়েছেন ৪ উইকেট।

এই ম্যচের আগে ৪ টেস্টে ও’কিফ নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। ৩২ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার এই টেস্টেই নিলেন ১২ উইকেট, মাত্র ৭০ রানে।

ভারতের মাটিতে এটি সফরকারী স্পিনারের সেরা বোলিং। পেস-স্পিন মিলিয়ে এর চেয়ে ভালো বোলিং আছে কেবল ইয়ান বোথামের, ১০৬ রানে ১৩ উইকেট।

স্মিথ দিন শুরু করেছিলেন ৫৯ রানে। আগের দিন তিন বার ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন। এদিনও জীবন পান দুবার। একবার ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি অজিঙ্কা রাহানে। আরেকবার নিশ্চিত এলবিডব্লিউ হলেও দেননি আম্পায়ার। ভারতের ছিল না রিভিউ।

স্মিথের কৃতিত্ব, পাওয়া জীবন কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। ৫১ টেস্টেই তুলে নিয়েছেন ১৮তম সেঞ্চুরি। নেতৃত্বের ২১ টেস্টেই দশম! ভারতের বিপক্ষে ৫টি সেঞ্চুরি করে ফেললেন টানা ৫ টেস্টে।

মিচেল মার্শ এদিন বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ককে। তবে ম্যাথু ওয়েড, মিচেল স্টার্কদের ছোট ছোট ইনিংস বাড়ায় ভারতের যন্ত্রণা। লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪১।

ম্যাচের ফল তো পরিষ্কারই। দেখার ছিল কেবল ব্যবধান। ও’কিফের অসাধারণ বোলিংয়ে ব্যবধানটাও দাঁড়ায় বিশাল।
মুরালি বিজয়কে ফিরিয়ে শুরু করেন ও’কিফ। আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুলকে তুলে নেন লায়ন। এরপর টানা ৫ উইকেট ও’কিফের!

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ বিরাট কোহলি। এবার ১৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ও’কিফের সোজা বল ছেড়ে দিয়ে।

শেষ ৬ ব্যাটসম্যানের কেউ ছুঁতে পারেননি দু অঙ্ক। ভারতের পাওয়া বলতে কেবল প্রথম ইনিংসের ১০৫ ছাড়িয়ে এবার ১০৭!

তিন দিন আগে যেটি ছিল অভাবনীয়, সেটিই করে দেখাল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের বাকি আরও তিন টেস্ট। তবে প্রথম টেস্টে ভয়াবহ টার্নিং উইকেটেও অস্ট্রেলিয়ার এমন জয় গোটা সিরিজকেই দিল ভিন্ন মাত্রা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২৬০

ভারত ১ম ইনিংস: ১০৫

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৮৭ ওভারে ২৮৫ (আগের দিন ১৪৩/৪) (স্মিথ ১০৯, মার্শ ৩১, ওয়েড ২০, স্টার্ক ৩০, ও’কিফ ৬, লায়ন ১৩, হেইজেলউড ২*; অশ্বিন ৪/১১৯, জাদেজা ৩/৬৫, উমেশ ২/৩৯, জয়ন্ত ১/৪৩, ইশান্ত ০/৬)।

ভারত ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৪১) ৩৩.৫ ওভারে ১০৭ (বিজয় ২, রাহুল ১০, পুজারা ৩১, কোহলি ১৩, রাহানে ১৮, অশ্বিন ৮, ঋদ্ধিমান ৫, জাদেজা ৩, জয়ন্ত ৫, ইশান্ত ০, উমেশ ০*; স্টার্ক ০/০, লায়ন ৪/৫৩, ও’কিফ ৬/৩৫, হেইজেলউড ০/৭)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩৩৩ রানে জয়ী

সিরিজ: চার ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্টিভেন ও’কিফ