করোনায় আড়াই কোটি শ্রমিক চাকরি হারাবে : আইএলও

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। আর এর প্রভাবে বিশ্বের আড়াই কোটি শ্রমিক চাকরি হারাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

জাতিসংঘ সংস্থাটির এই আশঙ্কামূলক মূল্যায়নটির কথা গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা ব্যবস্থা না নেন তাহলে শ্রমিকদের একটা বড় অংশ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

আইএলও বলছে, নতুন করোনা ভাইরাসের প্রভাব খুব স্বল্পমাত্রায় হলেও অন্তত ৮০ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। আর খুব বেশি মাত্রায় প্রভাব পড়লে বেকার হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ৪৭ লাখ।

তবে সংস্থাটি বলছে, এর আগে ২০০৮-০৯ সালে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার সময় আন্তর্জাতিকভাবে যে তৎপর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, ওই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হলে বৈশ্বিক বেকার হওয়ার এই সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমে যেতে পারে।

২০০৮-০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছিলেন।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের রক্ষা, অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং অর্থ উপার্জনের পথকে ধরে রাখতে জরুরিভিত্তিক বৃহৎ ও পারস্পারিক সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৫ জন; মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৭৪৯ জনের।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে। পরে তা চীনের অন্যান্য প্রদেশ এবং বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। ইতালি থেকে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘এটা শুধু বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট না, এটা বৈশ্বিক শ্রমবাজার এবং অর্থনীতির সংকট। মানুষের ওপর এর ভয়ানক প্রভাব আছে। ২০০৮ সালে সারা বিশ্ব সংকট থেকে উত্তরণে সমন্বিতভাবে লড়াই করেছিল। এর ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এখনো তেমন নেতৃত্ব দরকার।’

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। তবে করোনায় ৯ বছরের নিচের কেউ মারা যায়নি। প্রবীণদের মধ্যেই মৃত্যুহার বেশি।

x

Check Also

আজ রবিবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার। নতুন সূর্যালোকে আজ রবিবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up