করোনা ভাইরাস : সবাই সতর্ক ও সচেতন থাকুন

করোনা ভাইরাসকে অনেক আগেই বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫২ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ৬ হাজার ৫১৬ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এছাড়া ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখন পর্যন্ত ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনেই এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৬০ এবং সেখানে মারা গেছে ৩ হাজার ২১৩ জন।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আটজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই।

উল্লেখ্য, যখন কোনো রোগ একটি ছোট জায়গায় আটকে না থেকে বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা অনেক লোকের মৃত্যুর কারণ হয় তখন তাকে মহামারী বলা হয়।

করোনা ভাইরাস যেভাবে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বহু লোকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, তাতে একে মহামারী ঘোষণা করাটাই স্বাভাবিক। এ বছর ৩০ জানুয়ারি ডব্লিউএইচও করোনাভাইরাস নিয়ে একটি সতর্কতা জারি করেছিল।

গোটা বিশ্বকে তারা সতর্ক করে দিয়েছিল ভাইরাস বাহিত এ রোগ সম্পর্কে। এর দেড় মাস না যেতেই রোগটি মহামারীর রূপ নিল, এ তথ্য উদ্বেগজনকই বটে। তবে আমরা মনে করি এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এর চেয়ে অনেক গুরুতর রোগ বিভিন্ন সময় পৃথিবীতে মহামারীর রূপ নিয়েছে এবং অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। সে তুলনায় করোনাভাইরাসের মৃত্যুর হার নগণ্য।

তবে যেসব দেশে এ রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এবং মৃত্যুহার বেশি, সেসব দেশকে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিমধ্যে তারা সে ব্যবস্থা নিয়েছেও। বস্তুত সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া দরকার সব দেশেরই। আশার কথা, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এ রোগের বিস্তার এখনও তুলনামূলক কম। তা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস মোকাবেলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদেরও।

যে বিষয়টি উদ্বেগের তা হল, করোনা ভাইরাসের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিক্ষা, পর্যটন ইত্যাদি খাতে, যা থেকে আমরাও মুক্ত নই। বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশে একটি নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও পড়ে। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে।

এ পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা নিয়েও সবাইকে ভাবতে হবে। আমরা জানি না বিশ্বে এ রোগের ব্যাপকতা আর কতদিন থাকবে, কবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। করোনা ভাইরাসের মহামারী রূপ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামবে। মানুষ জরুরি প্রয়োজনেও বিদেশ যেতে পারবে না। বিশ্বে রাষ্ট্রগুলোর দুয়ার রুদ্ধ হয়ে পড়বে। বর্তমান যুগে এমন পরিস্থিতি কল্পনা করতেও ভয় হয়।

আমরা আশা করব, বিশ্বে দ্রুত এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। সর্বত্র স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্বভাবতই মানুষের মধ্যে এ নিয়ে একধরনের আতঙ্ক বা ভীতি কাজ করছে। আমরা মনে করি, মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। বরং মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেহেতু রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিয়েছে, সেহেতু এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে অবশ্যই। তবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলে এ নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠার কোনো কারণ ঘটবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বিশ্ব যত দ্রুত এ রোগের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত হয় ততই মঙ্গল।

x

Check Also

কারাগার থেকে মুক্ত হলেন শিপ্রা দেবনাথ

এমএনএ জাতীয় রিপোর্টঃ কক্সবাজার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ...

Scroll Up
%d bloggers like this: