কাশ্মীরে ৮ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। আজ সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আর ঘোষণার পর কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে আরও ৮ হাজার আধাসামরিক সেনা পাঠানো হচ্ছে।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমানবাহিনীর সামরিক পরিবহন সি-১৭ বিমানে করে আজই (সোমবার) জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে ৮ হাজার সেনা পাঠানো হবে। গত সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল দিল্লি। এবার তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত এই আট হাজার সেনাও যুক্ত হচ্ছে।

ভারতভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএনআই তাদের এক প্রতিবেদনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রের বরাত জানিয়েছে, সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কেনন যেকোনো সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

সূত্রের বরাতে এএনআই বলছে, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার বিলোপ করার ঘোষণা দেয়া হবে তাই গত কিছুদিন ধরে বিতর্কিত উপত্যকাটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরু করে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। উল্লেখ্য কাশ্মীরে প্রতি ১০ জন মানুষের জন্য একজন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

আজ সোমবার রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন অমিত শাহ। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা তুমুল হই হট্টগোল জুড়ে দেন। কয়েক মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা আছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো ‘দেশীয় রাজ্য’ পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।

বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ায় কাশ্মীরে ব্যাপক জনরোষ দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে অমরনাথের পথে থাকা হিন্দু পুণ্যার্থী ও কাশ্মীর উপত্যকায় থাকা পর্যটকদের তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

এরপর গতকাল রবিবার রাত থেকে কাশ্মীরের শীর্ষ নেতাদের গৃহবন্দি করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে তাদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।

বিজেপিবিরোধী হিসেবে পরিচিত ওই নেতাদের গৃহবন্দি করার পাশাপাশি সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু জায়গায় ফোন ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার লিখেছে, জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও সরকার তা স্বীকার করেনি।

তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিএসএফকে থানা পাহারা দিতে দেখা গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ আর্টিকেল জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের নিজস্ব সংবিধান রাখার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও বৈদেশিক সম্পর্ক বাদে আর সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছিল। ভারতীয় সংবিধানের এই অংশটি বাতিল হলে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অধিকার শেষ হবে। এই ৩৭০ আর্টিকেলের আশ্বাসেই ১৯৪৭ সালে কাশ্মীর ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিল।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘জম্মু ও কাশ্মীর সংরক্ষণ বিল’ নামে আরও একটি প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার, যা পাস হলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হবে আলাদা দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। রাজধানী দিল্লির মতো জম্মু ও কাশ্মীরে আইনসভা থাকবে, তবে লাদাখে তা থাকবে না।

x

Check Also

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : চীনের সঙ্গে চলমান ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি ...

Scroll Up