খাদিজা হত্যাচেষ্টায় বদরুল আলমের যাবজ্জীবন

73

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র আসামি ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে বদরুলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাঁকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এ রায় দেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি বদরুল আলম।

রায়ে আদালত বলেন, প্রেমের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা থাকতেই পারে। কিন্তু তার জন্য এ ধরনের নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কাম্য হতে পারে না।

আদালত বলেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দেশের জন্য নারীদের অবদান উল্লেখ করার মতো। আজকের এই রায় নারীদের সুরক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মামলার বাদী খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বলেন, রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। সবার প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এই রায় যাতে বহাল থাকে, সেই প্রত্যাশা তাঁর।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘আমরা অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি। অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। আজ একটি বিশেষ দিন। এই দিনে এমন রায় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ভূমিকা রাখবে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, তাঁর মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

এ রায়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সহিংসতার বিচার পেলেন খাদিজা।

এর আগে গত রবিবার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। পরে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ৮ মার্চ তারিখ ধার্য করেন। এই মামলায় পুরো রায় বাংলায় লেখা হবে বলে আদালতের বিচারক ওই দিন ঘোষণা দেন।

মামলাটি ১ মার্চ সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সবশেষ সাক্ষী হিসেবে খাদিজার সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস।

খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র বদরুল। ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে আটক করে পুলিশে দেয়।

বর্বর হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে খাদিজাকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে পুনর্বাসনের জন্য সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয় খাদিজাকে।

প্রায় ৫ মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গ্রামের বাড়ি ফেরেন খাদিজা।

অপরদিকে খাদিজার ওপর বর্বর হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হামলার ঘটনার পর ছাত্রলীগ বদরুলকে বহিষ্কার করে।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি খাদিজা আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন।

৫ অক্টোবর বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

গত ৮ নভেম্বর শাহপরাণ থানার এসআই হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

গত ১ মার্চ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত থেকে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

২৯ নভেম্বর বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। আজ আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।