খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে বাসে পেট্রলবোমা

এমএনএ রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার বহরের কাছে দুটি বাসে পেট্রল বোমা মেরেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় খালেদা জিয়ার গাড়ির ১০ গজ ও স্থানীয় র‌্যাব অফিসের ১০০ গজের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা কোনো গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, কেউ হতাহতও হয়নি। নেতাকর্মীরাসহ পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িবহর ফেনী পার করে দিয়েছে।
ফিরতি পথে খালেদা জিয়ার ফেনী সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি করার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম থেকে রওনা হতে দেরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আগেই বাদ দেওয়া হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীর মহিপাল অতিক্রম করছিল। এ সময় সেখানে একটি পেট্রল পাম্পের ৩০০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই বাস দুটিতে আগুন ধরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে ঘটনার সময় বাস দুটিতে কেউ ছিল না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। তারা আরও জানান, ক্ল্যাসিক ও শান্ত পরিবহনের দু’টি বাস স্থানীয় নাজির আহমেদের সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। এ সময় অজ্ঞাত ২০/২৫ জন দুর্বৃত্ত গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছোড়ে। পেট্রোল বোমা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় ৫/৬টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
পরে পুলিশ যুবলীগকর্মী পিয়ার আহমেদকে হামলার ঘটনায় আটক করে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খালেদা জিয়ার বহরের পেছনের গাড়িতে থাকা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, চেয়ারপারসনের গাড়িবহর পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর উল্টো পাশে দুটি বাসে আগুন জ্বলতে দেখি। এ সময় বহরে থাকা কিছু নেতাকর্মী দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সিনিয়র নেতারা গাড়ি থেকে নেমে ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক পুরো রাস্তা অবরোধ করে ফেলি। এ সময় আশপাশের বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা একটু পেছনে ছিলাম। ঘটনার কয়েক মিনিট পরেই আমরা স্পটে ছুটে যাই। বাস দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তবে কীভাবে এ আগুন লাগানো হয়েছে- তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিএনপির বহরে থাকা সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা দুটি বাসে আগুন দিলেও চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে নিরাপদে ঢাকায় পৌছতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারই অংশ হিসেবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই এলাকায় খালেদার গাড়িবহর এসে পৌঁছালে ফেনী জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহস্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে দলীয় প্রধানকে নিরাপদে ফেনী সীমানা পার করে দিতে অগ্রসর হন।
গাড়িবহরটি মহিপাল ব্রিজ অতিক্রম করার খানিক পরেই উল্টোপথে দুটি বাসে আগুন লাগানো হয়। এসময় গাড়িবহরে থানা নেতাকর্মী ও ফেনী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন।
বহরটি চৌদ্দগ্রাম অতিক্রমের সময় সেখানেও একটি বাসে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর কুমিল্লার কাছে ছিল।
বহরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমানউল্লাহ আমান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, নাজিম উদ্দিন আলম, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান রয়েছেন।
কক্সবাজারের উখিয়ার উদ্দেশে গত শনিবার ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলন খালেদা। গত শনিবার রাত চট্টগ্রামে কাটিয়ে পরদিন কক্সবাজার পৌঁছান তিনি। গতকাল সোমবার তিনি উখিয়া গিয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। আজ মঙ্গলবার রওনা হন ঢাকার পথে।
যাওয়ার পথেও ফেনী জেলার সীমানার শুরুতে মোহাম্মদ আলী বাজারে খালেদার গাড়িবহরে হামলা হয়।
ওই ঘটনায় খালেদার বহরের এবং গণমাধ্যমের প্রায় ৩০টি গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মারধরের শিকার হন।
ওই হামলার জন্য বিএনপি ফেনীর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দায়ী করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, বিএনপি হামলার এই ঘটনা সাজিয়েছে।
x

Check Also

১১ দফা দাবিতে সারা দেশে নৌ ধর্মঘট চলছে

এমএনএ রিপোর্ট : নিয়োগপত্র, খোরাকিসহ ১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। ...

Scroll Up