খালেদা জিয়ার বিষয়ে কিছুই করার নেই : ইসি

39
এমএনএ রিপোর্ট : পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারা বা না পারার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।
আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টারি (ইপি) ডেলিগেশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বৈঠকে কোনো কথা হয়েছে কি না? জবাবে কমিশন সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে (ইপি’র) একজন জানতে চেয়েছিলেন। সিইসি তাদেরকে বলেছেন- এটি আদালতের বিষয়।’
ওই প্রশ্নের জবাবে ইপি প্রতিনিধিদেরকে সিইসি বলেন, ‘আদালত যদি অ্যালাও (অনুমোদন) করেন, তাহলে ইসির কিছু করার নেই। আর যদি অ্যালাও না-ও করেন, তাহলেও ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে না। কমিশন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সবকিছু করবে।’
বৈঠকের বিষয়ে ইসির সচিব জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি। বতর্মান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ফোকাসের মধ্যে নাই। তারা কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছেন। কোনো পরামর্শ দেননি।
ইইউ বলেছে, নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে সেটাই তারা প্রত্যাশা করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ‘স্বাধীন ও বিশ্বস্ত’ ভূমিকায় আনতে ইইউ কোনো সুপারিশ বা পরামর্শ দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, এরকম কোনো প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা আমাদের জানা নাই। আমরা বলেছি যে, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করবে।
ইসি সচিব বলেন, প্রতিনিধিদল আগামী সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। সিইসি তাদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। এবার যেহেতু একজন প্রার্থী ছিলেন, তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
হেলালুদ্দীন বলেন, প্রতিনিধিদল মূলত দেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। নির্বাচনে খরচের টাকা কে বহন করে—তা তারা জানতে চেয়েছিল। কমিশন বলেছে, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সরকার খরচ বহন করে থাকে।
বৈঠক শেষে ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্ট সাংবাদিকদের বলেন, ইইউ বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে পারেন এবং সব দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি আদালত নিষ্পত্তি করবে।