খালেদা জিয়া এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না : মওদুদ

35
এমএনএ রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। তবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
আজ বুধবার সকালে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। তার মুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা আছে।
মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় তিনটি, ঢাকায় দুটি ও নড়াইলে একটি মামলা রয়েছে। যেহেতু সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন তাই নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন পেতে খুব একটা বেশি দেরি হবে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জামিনে বের করে আনবো। খালেদা জিয়া শিগগিরই নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে আসবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, আজ বুধবার সকাল ৯টা পাঁচ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখেন।
একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা অর্থ আত্মসাতের দায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫।
এর পর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেন।
এ জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন।
অন্যদিকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা সেদিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে।
আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। ১৯ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত রেখে শুনানির জন্য ৮ মে নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।
দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি এবং খালেদার জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তবে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখার আর্জি জানিয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।