গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গাইবান্ধার বাদিয়াখালি রেল স্টেশন থেকে ত্রিমোহনী রেল স্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় শান্তাহার-লালমনিহাট রেল রুটে ট্রেন চলাচলা বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে গাইবান্ধা সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটা এই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়। তবে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস পার্বতীপুর হয়ে বিকল্প রেল রুটে ঢাকায় যাতায়াত করছে। এদিকে গাইবান্ধা সদরের কাজলঢোপ এলাকায় ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ১০০ মি. অংশ ধসে যাওয়ায় গাইবান্ধা -সাদুল্লাপুর সড়কের উপর দিয়ে কাজলঢোপ, কদমের তল, ব্রিজ বাজার এলাকায় বন্যার পানি প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়ে।

অপরদিকে, গাইবান্ধার ফারাজিপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কিছু অংশ ডুবে গেছে। ফলে সড়কের কদমতলী নামক স্থানের একটি ব্রিজ ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় আজ বুধবার ভোর থেকে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের পোড়াবাড়ী এলকায় বন্যার পানির তোড়ে সাঘাটা উপজেলার পোড়াবাড়ী এলাকায় ২০০ ফুট পাকা সড়ক ধসে গাইবান্ধার সাথে সাঘাটার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গাইবান্ধা শহররক্ষা ঘাঘট নদী বাঁধের একাধিক এলাকায় ধসে যাওয়ায় শহরে পানি ঢুকেছে। সরেজমিন দেখা যায় শহরের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াভয় রূপ ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা দায়রা জজের বাসভবন, পুলিশ লাইন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ, ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেকসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে থৈ থৈ করছে বন্যার পানি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ৪ লাক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা কবলিত এলাকায় জেলা ত্রাণ ভান্ডার থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার মে. চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং ১০ হাজার কার্টুন শুকনা খাবার। ওইসব সামগ্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের কাজ চলছে। তবে ক্ষতির তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আজ বুধবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৪৪ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে।

গাইবান্ধার রেল লাইন রক্ষণাবেক্ষণকারী (মেস্ট) মো. মুকবুল হোসেন জানান, গাইবান্ধার বাদিয়াখালি রেল স্টেশন থেকে তীরমোহনী রেল স্টেশন পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রেল লাইনের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। কোন কোন স্থানে ৪ ইঞ্চি, আবার কোন কোন জায়গায় ৬ ইঞ্চি উপর দিয়ে এই পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এরফলে কিছু কিছু জায়গায় রেল লাইনের নীচের মাটি, পাথর ও স্লিপার ধসে গেছে।

গাইবান্ধা রেল স্টেশনের মাস্টার আবুল কাশেম জানান, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে রেল লাইনের নীচ থেকে স্লিপার, মাটি ও পাথর ধসে গিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শান্তাহার-লালমনিহাট রেল রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

x

Check Also

টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এমএনএ রিপোর্ট : দীর্ঘদিন বিনিময়মূল্য ধরে রাখার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু করেছে ...

Scroll Up