গাজীপুরের ৩৯০ পোশাক কারখানার শ্রমিক এখনও বেতন পাননি

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর দেশে নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠেছে গাজীপুর। এমন ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রতিদিনই এ জেলায় বিক্ষোভ করতে দেখা যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের।

গতকাল জেলার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের অন্তত ৩৯০টি পোশাক কারখানা এখনো মার্চের বেতন দেয়নি। এ কারণে ঝুঁকির কথা জেনেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ করছেন এসব কারখানার শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা সময় নিয়েও বেতন পরিশোধ করেনি।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় পোশাক কারখানা চালু ছিল ২ হাজার ৭২টি। গত রবিবার পর্যন্ত এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮২টি কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি কারখানার প্রায় তিন লাখ এখনো মার্চের বেতন-ভাতা পাননি। অনেক কারখানায় আবার ফেব্রুয়ারির বেতনও বকেয়া রয়েছে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথায় তারা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করছেন। বিক্ষোভের সময় একসঙ্গে অনেক শ্রমিক জড়ো হওয়ায় নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ জেলায় এরই মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা আড়াইশ’ পার হয়ে গেছে।

গতকাল দুপুরে পুবাইল, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, কয়েক দফা তারিখ দিয়ে মালিকরা বেতন দিচ্ছেন না। কেউ কেউ ফোনও ধরছেন না। বাধ্য হয়ে তারা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা পারতপক্ষে মাস্ক ব্যবহার করছেন।

শ্রীপুর মুলাইদ গ্রামের স্টার প্যারাডাইস ফ্যাক্টরির এক অপারেটর জানান, ফেব্রুয়ারির আংশিক এবং মার্চের বেতন এখনো পাইনি। এ কারণে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

এমএ অ্যাপারেলসের এক নারী কর্মী বলেন, আমরা প্রায় ৩০০ শ্রমিক মার্চের বেতন পাইনি। বেতন না পাওয়ায় ঘর ভাড়া ও দোকানের বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। টাকার অভাবে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। করোনায় আক্রান্তের আগেই না খেয়ে মরার উপক্রম। তাই বিপদ জেনেও আন্দোলন করতে হচ্ছে।

একই কারখানার আরো দুই শ্রমিক বলেন, চার-পাঁচদিন ধরে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করছি। কিন্তু মালিকের দেখা নেই। পুলিশ নানা আশা দিচ্ছে। কিন্তু বেতনের কোনো সুরহা হচ্ছে না। কী করব বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার জানান, গার্মেন্টস খোলা থাকায় এবং কিছু কারখানায় বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় গাজীপুরে লকডাউন নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব মালিক বেতন দেননি, সেসব কারখানার শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে জড়ো হচ্ছেন, বিক্ষোভ ও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করছেন। এসব বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, গাজীপুরের ২ হাজার ৭২টি পোশাক কারখানার মধ্যে এখনো চালু আছে ১৪২টি। বাকিগুলো করোনার কারণে বন্ধ। ১ হাজার ৬৮২টি কারখানা গত রবিবার পর্যন্ত শ্রমিকদের মার্চের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। বাকি ৩৯০টি কারখানা এখনো বেতন পরিশোধ করেনি।

বেতনের দাবিতে অনেক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। আমরা মালিক-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করে অনেক কারখানায় বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করেছি।

আজ মঙ্গলবার (গতকাল) বেশ কয়েকটি কারখানায় বেতন দেয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকটি কারখানার বেতন দেয়া হবে। অনেক মালিক আন্তরিক, তারা নানাভাবে চেষ্টা করছেন। তবে অনেকে ফোনই ধরেন না। ধরলেও ব্যাংক সমস্যা, টাকা নেই, দিই-দিচ্ছি বলে নানা টালবাহানা করছেন। শিল্প পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করার।

x

Check Also

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এমএনএ ফিচার রিপোর্টঃ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম অ-ইউরোপীয় ও বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী ...

Scroll Up
%d bloggers like this: