গোপনে ইমরান এইচ সরকারের বিবাহবিচ্ছেদ

42
এমএনএ রিপোর্ট : গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কন্যা নাদিয়া নন্দিতা ইসলামের গোপনে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মেয়ের সম্মতিক্রমে তিন মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। উভয় পরিবারের মধ্যে বিষয়টি গোপন ছিল। মন্ত্রী আজ সোমবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রধান ইন্ধনদাতা ইমরান এইচ সরকার। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উস্কানিদাতাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে, সে যে-ই হোক না কেন। ইমরান আর আমার মেয়ের স্বামী নন। তিন মাস আগেই পারিবারিকভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে।
এ বিষয়ে ইমরান এইচ সরকারের মন্তব্য জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন। তিনি বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে বিষয়টি জেনেছেন।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে মন্ত্রীকন্যা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাদিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইমরান এইচ সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ গঠনের পর থেকে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান এইচ সরকার। এরপর থেকে বাংলাদেশে আলোচিত একটি মুখ চিকিৎসক ইমরান এইচ সরকার। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন কুড়িগ্রামের সন্তান ইমরান। ছাত্র থাকাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি।
এদিকে এই বিবাহবিচ্ছেদকে ঘিরে নানা রকম গুজব ছড়িয়েছে। গুজবে জানা যায়, দেশে বিদ্যমান সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন ডা. ইমরান এইচ সরকার। আর এই অভিযোগটি করেছেন খোদ সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
এই অভিযোগের প্রেক্সিতে ডা. ইমরান এইচ সরকারের ফেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, কোটা আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই তিনি তার নিজের মনোভাব প্রকাশ করে আসছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর ভয়াভহ হামলার একাধিক ছবিও তিনি প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে চলমান আন্দোলনে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার একটি গুজবে ইমরান এইচ সরকারের উস্কানি ছিলো বলেও মত আসে।
ডা. ইমরান এইচ সরকার আজ সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বলেন, আমি এই ছেলেটির নাম দিলাম ‘সাহস’। সে এখন বাংলাদেশের সাহস। ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করার সাহস। ন্যায্যতার জন্য এভাবেই সাহসী হতে হয়। সাহসের ছবিটা আমার মতো সবাই নিজের ওয়ালে রেখে দিন। আমাদের সাহসেরা আরো সাহসী হয়ে উঠুক।
আরেকটি মন্তব্যে বলেন, সাবাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়! কোটা সংস্কারের দাবিতে এভাবেই গর্জে উঠুক সারাদেশ। সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ভাইয়েরা আজ রক্তাক্ত। ন্যায্য কথা বলতে এসে আজ তারা আক্রান্ত। এই ভয়াবহ নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে দিন সবখানে। প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ গড়ুন।
এর আগে গত রবিবার তিনি তার মন্তব্যে বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের আপনি রাজাকার বলেন, বিএনপি-জামাত বলেন আর যাই বলেন! আমার চোখে আন্দোলন মুলতঃ ন্যায় আর অন্যায়ের। আর আমি অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে; কোটা সংস্কারের পক্ষে। কে রাজাকার কে মুক্তিযোদ্ধা সেটা সময়ই বলে দেবে।
এর আগে তিনি বলেন, একটা ভালো খবর হলো, একজন মারা যাবার যে গুজবটা ছড়িয়ে পড়েছিল এখনো সেটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের অবস্থা বেশ খারাপ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেনো সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন।