ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ফাঁসছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

18
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েল পুলিশ জানায়, ঘুষ, প্রতারণা ও অবৈধভাবে ক্ষমতার ব্যবহারের দুটি পৃথক মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
তবে ইসরায়েল টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু বলেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকবেন। অভিযোগ বিনা প্রমাণেই উঠে যাবে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি হলো—ইসরায়েলের ইয়েদিয়ত আহারোনত পত্রিকাকে নিজের পক্ষে খবর প্রচার করতে বলেন নেতানিয়াহু। বিনিময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ইয়েদিয়ত আহারোনতকে সাহায্য করার আশ্বাস দেন তিনি। পুলিশ বলছে, পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত হলিউড মুঘল বলে পরিচিত আহনন মিলচ্যানসহ বিভিন্ন ভক্তের কাছে থেকে তিনি অন্তত ২ লাখ ৮৩ হাজার ডলার মূল্যের ‘উপহার’ গ্রহণ করেছেন। জেরুজালেম পোস্টের এক খবরে বলা হয়, উপহারগুলোর বেশির ভাগ ছিল শ্যাম্পেন ও সিগার। মিলচ্যানকে মার্কিন ভিসা পেতে সাহায্য করার বিনিময়ে এই ঘুষ নেন তিনি। ‘ফাইট ক্লাব’, ‘গন গার্ল’ ও ‘দ্য রেভন্যান্ট’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের প্রযোজক আহনন মিলচ্যান। তাঁর বিরুদ্ধেও ঘুষ প্রদানের অভিযোগ আনা উচিত বলে মনে করছে ইসরায়েল পুলিশ।
পুলিশ বলছে, অস্ট্রেলিয়ান ধনকুবের জেমস প্যাকারের কাছ থেকেও ‘উপহার’ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন নেতানিয়াহু। তারা বলছে, নেতানিয়াহুকে এসব বিষয়ে এ পর্যন্ত সাতবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, উপহার নিয়ে নেতানিয়াহু হলিউডি প্রযোজককে আইনী সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিদেশফেরত কোনো ইসরায়েলি দেশে বসবাস শুরু করলে তাকে ১০ বছরের কর রেয়াত দেওয়ার যে সুযোগ আছে প্রধানমন্ত্রী তা মিলচানকে পাইয়ে দিতে সুপারিশ করেছিলেন।
যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় পরে নেতানিয়াহুর এ প্রস্তাব আটকে দেয়।
অস্ট্রেলীয় ধনী জেমস প্যাকার জড়িত এমন এক ঘটনায় নেতানিয়াহুর জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গেরও সন্দেহ করছে পুলিশ।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টেনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যাকার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে উপহার দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে অন্তত ৭ বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলেও ভাষ্য দেশটির গণমাধ্যমের।
বিবিসি বলছে, পুলিশ চাইলেও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর বিচার শুরু হবে কিনা সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কখনো কখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কয়েক মাসও লাগতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রী আয়েলেত শেকেড বলেছেন, অভিযোগ দায়ের হলেই কোনো প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য নন।
ইসরায়েলি টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহুও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী বছরের নভেম্বরে দেশটিতে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের অবস্থাও পলকা। যদিও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই বলছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জোটে ভাঙন কিংবা আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই।
৬৮ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন; সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে তার অবস্থান ১২ বছরের। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকদফা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুই দশক আগে প্রথম দফা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া উপহার রাষ্ট্রকে না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল পুলিশ।
২০১৫ সালের জুলাইয়ে এ দম্পতির বিরুদ্ধে তাদের ব্যক্তিগত কাজ করা এক ঠিকাদারের পরিষেবার বিল সরকারের নামে করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। দুটি অভিযোগই পরে তুলে নেওয়া হয়।