চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন : পিবিআই

এমএনএ রিপোর্ট : সালমান শাহ মারা যাওয়ার প্রায় দুই যুগ পরে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। তদন্তের পর সংস্থাটি বলছে, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করার তথ্য উঠে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদরদপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সালমান শাহ রহস্যজনক মৃত্যুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি তদন্তে। আমরা সালমানের সেই সময়ের স্ত্রী সামিরাসহ সন্দেহভাজনদের বক্তব্য নিয়েছি। সবমিলে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে যে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পারায় আত্মহত্যা করেন সালমান শাহ।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার কথা ছিল পিবিআইয়ের। তবে ওই তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ পুনঃতদন্ত প্রতিবেদনটি ১৮ মার্চ জমা দেয়ার আদেশ দেন। প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ আসার আগেই সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিস্তারিত তুলে ধরল সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে বনজ কুমার বলেন, ৪৪ জনের জবানবন্দিসহ সার্বিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গণে প্রবেশ করা সালমান শাহর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন)। মাত্র অল্প কিছুদিনের ক্যারিয়ারে তিনি উঠে গিয়েছিলেন জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে তার নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় তখন অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (প্রয়াত)। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এরপর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে র‌্যাবের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তারপর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে।

x

Check Also

নিজামুদ্দিনে যোগ দেয়া ৬৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের সমাবেশে যোগদানকারীদের ৬৫০ জন করোনা ভাইরাসে ...

Scroll Up