চীনের সঙ্গে যুদ্ধপ্রস্তুতির বাজেট চেয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী

37

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দোকলাম নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই চীনের সঙ্গে যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত বাজেট চাইল ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত মঙ্গলবার জরুরি ভারতের অনুদান তহবিল থেকে বার্ষিক বাজেটের বাইরে আরও ২০ হাজার কোটি রুপি দাবি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, আগামী ৫ বছর প্রতিরক্ষা বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৬ লাখ ৮৪ হাজার কোটি রুপি করারও আবেদন করেছে মন্ত্রণালয়। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

দেশটির সিকিম-ভুটান-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত ডোকালাম এলাকা নিয়ে গত আট সপ্তাহ ধরেই চীনের সঙ্গে

দোকলাম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘যুদ্ধাবস্থা’ চলছে। হুমকি-পাল্টা হুমকির পর উভয় সীমান্তেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে দুই দেশ। সীমান্তের চলমান এ সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে এ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সেনাবাহিনীকে সমরাস্ত্রে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করাই এ বাজেটের উদ্দেশ্য।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১৩ কোটি রুপির প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা জিডিপির ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে ওই বাজেট ছিল গত বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বাজেটের অর্ধেক অংশ তারা পেয়েছে এবং এরই মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থ খরচ করেছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ জন্য আগে সেনাবাহিনীকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হতো।

এদিকে, পাকিস্তান সীমান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাজস্থানের আলওয়ার এবং পালি গ্রামে এ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে। রাজধানী নয়াদিলি্ল এবং বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়েও এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর ডনের।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৮০০ কিলোমিটারেও কম দূরত্বে অবস্থিত এ দুই ভারতীয় গ্রাম। ভারতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এ দুই গ্রামে মোতায়েন করা হবে। পৃথিবীর আবহমণ্ডলের বাইরে বা ভেতর ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে শত্রুর ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র এ ব্যবস্থা দিয়ে ঘায়েল করা যাবে।

ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম। আরও কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। চলতি বছরের মার্চে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সর্বশেষ সফল পরীক্ষা চালানো হয়।