চীনে নির্মিত হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম শহর

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নানা কারণে বর্হিবিশ্বে চীনের পরিচিতি পেয়েছে মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে। তাই মুসলিম বিদ্বেষ পরিচিতি মুছে ফেলতে চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে ৬০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ইনচুয়ান শহরটিকে ‘বিশ্ব মুসলিম শহরে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট সরকার। শহরটি চীনা হুই মুসলিম শাসিত নিংজিয়া প্রদেশের রাজধানী।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে শহরটিতে মসজিদ সদৃশ রাজকীয় ভবন, আরবি অক্ষরে লিখিত পথ নির্দেশিকা এবং এক হাজার এক আরব্য রজনীর অনুকরণে আলোকসজ্জাসমেত থিম পার্ক নির্মাণ করছে চীন।

Muslim-Town-1যদিও আরব্য রজনী, ডান্স শো’র মতো প্রদর্শনগুলো ইসলাম সমর্থিত না হওয়ার চীনের অনেক মুসলিম বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন সরকারের এ পরিকল্পনায়।

তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনা-আরব ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে এই থিম পার্কটি তৈরি করছে চীন সরকার।

পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের অন্যতম সংখ্যালঘু হলো মুসলমান সম্প্রদায়। দেশটিতে মোট জনগোষ্ঠীর ২ শতাংশেরও কম মুসলমান বসবাস করেন! এ অবস্থাতেও

চীনে দু’রকম মুসলমান আছে। ‘হুই’ ও ‘উইঘুর’। হুই ও উইঘুর মুসলমানদের উদ্ভব ও বিভক্ত এক নয়। যাদের বলা হয় হুই মুসলমান- তাদের পূর্বপুরুষদের পারস্য, সিরিয়া, ইরাক, আনাতোলিয়া প্রভৃতি জায়গা থেকে কাজ করার জন্য ধরে আনা হয় চীনে। চীনে এরা বিয়ে করে হান কন্যা। এর ফলে উদ্ভব হয় হুইদের। এরা দেখতে প্রায় হানদেরই মতো। হুইরা বাইরে হানদের মতো মান্দারিন ভাষায় কথা বললেও বাড়িতে যে ভাষায় কথা বলেন, তাতে দেখা যায় অনেক আরবি শব্দ। হুইরা সারা চীনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তবে তারা বিশেষভাবে বাস করে উত্তর চীনের কানসু প্রদেশে।

উইঘুর মুসলমানদের বাস জিনজিয়াং অঞ্চলে। চীনের বৃহত্তম এ প্রদেশটিতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। চীনের মোট আয়তনের এক ষষ্ঠাংশজুড়ে জিনজিয়াং। যার আয়তন বাংলাদেশের আয়তনের ১২ গুণ!

Muslim-Town-2দেশটির মুসলিম নাগরিকদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের জন্য বরাবরই চীন সমালোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত তুর্কি ভাষী উইঘুর মুসলিমরা চীনা সরকারের ব্যাপক নির্যাতনের শিকার। তাই ইসলামবিদ্বেষী বদনাম ঘোচাতে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে চীনে ইসলামের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তার দেশের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেছেন।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, চীনা নেতারা উইঘুর মুসলিম ভূখণ্ডে এই থিমপার্ক নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। হুই মুসলিমরা উইঘুরদের মতো তুর্কি ভাষী নয়, তারা সাধারণত মান্দারিন ভাষী এবং জাতিগতভাবে সংখ্যাগুরু হান বৌদ্ধদের ঘনিষ্ঠ। এ কারণে হুইরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা পুলিশি নির্যাতনের শিকার কম হয়। হুই অধ্যুষিত ইনচুয়ানে থিম পার্ক নির্মাণ করে চীনা নেতারা সরকার অনুমোদিত চীনা ভার্সন ইসলামের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আর তাই হাজার বছর ধরে শোষিত-নির্যাতিত একটি জাতিকে কৃত্রিম স্থাপনা দ্বারা মুড়িয়ে নবরূপ দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত চীনের কম্যুনিস্ট সরকার- এমনই অভিযোগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

x

Check Also

আজ বুধবারের দিনটি আপনার কেমন যাবে?

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার। নতুন সূর্যালোকে আজ বুধবারের দিনটি আপনার ...

Scroll Up