চীন-ভারত ভালো বন্ধু হওয়া উচিত : শি জিনপিং

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিশ্বের বহুমুখী মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক বিশ্বায়নে চীন-ভারত মেরুদণ্ড। এজন্য বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে যৌথভাবে দুই দেশের অবদান রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নজিরবিহীন এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ দুই চালিকা শক্তি হচ্ছে চীন এবং ভারত।
শি জিনপিং বলেন, ‘এক বিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার সঙ্গে উদীয়মান-বাজার অর্থনীতির দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের মেরুদণ্ড হলো চীন এবং ভারত।’
চীনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীন-ভারতের ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্যও এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।’ দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ অ্যাজেন্সির এক প্রতিবেদনে শি জিনপিংয়ের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক চীন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘নতুন ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, উন্নয়ন ও পুনর্বিন্যাসের মহাসড়কে চীন এবং ভারত একই ধরনের কর্মযজ্ঞের মুখোমুখি।
জিনপিং বলেন, উন্নয়নের ওপর আমাদের দৃঢ় নজর রাখা উচিত। উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার এবং স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং এশিয়ায় সমৃদ্ধ ২১ শতক গড়তে যৌথভাবে জাতীয় পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে যৌথভাবে ইতিবাচক অবদান রাখার পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, চীন এবং ভারতের উচিত ভালো প্রতিবেশী এবং ভালো বন্ধু হওয়া। দুই দেশকে বিশ্ব শক্তি পরিবর্তনে একে অপরের নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের চীন সফরকে ‘একান্ত ঘরোয়া’ বলছে নয়াদিল্লিভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এটিকে ‘বরফগলা’ সফরও বলছে কিছু সংবাদমাধ্যম। এই ‘ঘরোয়া বরফগলা’ সফরে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি না থাকলেও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন মোদী। আর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্কে ‘নবযুগ’ সূচনার ডাক দিয়েছেন জিনপিং।
দু’দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চীনের মধ্যাঞ্চলের হাবেইয়ের উহান প্রদেশে পৌঁছালে স্থানীয় সংস্কৃতির ছন্দে মোদীকে অভ্যর্থনা জানান জিনপিং। দেওয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। এরপর দুই নেতা যান ৪৩৩ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের এক রাজার সমাধি দেখতে। তারা একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পাশাপাশি বসে দেখেন। বসেন বৈঠকেও। পাশাপাশি আরও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আজ শনিবার সকালে নৌবিহার উপভোগ করেন দুই নেতা। তাদের সকালটা শুরু হয় ‘চায়ের আড্ডায়’। সেই আড্ডায় মোদী কথা বলেন দু’দেশের সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে। এসময় দুই নেতাই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে দু’পক্ষের শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে সংলাপে অগ্রগতি আনতে সহমত। দুই নেতাই মনে করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিমত থাকলেও ভারত ও চীন দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করার মতো পরিণত ও প্রজ্ঞাবান। এসময় শি জিনপিং দু’পক্ষের সম্পর্কে ‘নবযুগ’র সূচনার ডাক দেন।
সীমান্তের দুকলাম মালভূমিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বছরের মাঝামাঝিতে তুমুল উত্তেজনায় জড়ায় ভারত-চীন। দু’পক্ষই ব্যাপক সৈন্য-সামন্ত জড়ো করে সীমান্তে। তবে নয়াদিল্লি-বেইজিং পরে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনার ইতি টানে। সেই পরিস্থিতির পর বিশ্ব ফোরামে একাধিকবার সাক্ষাৎ হয় মোদী ও জিনপিংয়ের। এবার সরাসরিই চীনে চলে গেলেন মোদী।
ফেরার আগে জিনপিংকে আগামী বছর একই ধরনের ‘ঘরোয়া’ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদী বলেন, বিশ্বের ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবেই ভারত ও চীনকে বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সূত্র : পিটিআই।
x

Check Also

করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯২২

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আগের তুলনায় চীনে এতে ...

Scroll Up